সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ-ছনবাড়ী সড়কে চরম দুর্ভোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
সিলেটের ভোলাগঞ্জ-ছনবাড়ী সড়কে ভোগান্তির শেষ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ থেকে শাহ আরেফিন হয়ে ছনবাড়ী পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশটি বর্তমানে বড় বড় গর্ত, কাদা-পানি ও ভাঙাচোরা অংশে পরিণত হয়েছে, যার কারণে এটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অংশ হওয়া সত্ত্বেও অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সড়কটি স্থানীয়দের কাছে এখন দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকল্প কোনো সহজ পথ না থাকায় প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, তখন যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।

অনেক চালক জানান, রাস্তার গভীর গর্তে পানি জমে থাকার কারণে গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে প্রায়ই বিকল হয়ে যায়। এতে শুধু সময় নষ্টই নয়, অতিরিক্ত মেরামত খরচও বহন করতে হচ্ছে তাদের। যাত্রীদেরও পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।

এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এই সড়কের কারণে শুধু দৈনন্দিন জীবনই নয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া প্রায়ই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও অনেক সময় আটকে যায় খারাপ রাস্তার কারণে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলাগঞ্জ থেকে ছনবাড়ী পর্যন্ত মোট সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২.২ কিলোমিটার অংশে আরসিসি ঢালাই করা হয়েছে। তবে বাকি প্রায় ৩.৩ কিলোমিটার অংশ এখনও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই অংশটিই বর্তমানে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে একই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সুনাই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যা সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়ক হিসেবে এই ভাঙাচোরা অংশটি কার্যকর না থাকায় এর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি কার্যত আংশিক ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সড়কের উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে এলাকার মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন বাজার ব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা Local Government Engineering Department Bangladesh (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ভোলাগঞ্জ-শাহ আরেফিন-ছনবাড়ী সড়কের বাকি অংশ উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ৩.৩ কিলোমিটার অংশ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী জানান, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও সমন্বয় করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও এই সড়কের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মনে করছেন, এই সড়কের উন্নয়ন সম্পন্ন হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্রও বদলে যাবে। বিশেষ করে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, দীর্ঘদিনের অবহেলা, বর্ষাকালীন ক্ষয়ক্ষতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটির অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে ভোলাগঞ্জ-ছনবাড়ী সড়ক এখন শুধু একটি যোগাযোগ পথ নয়, বরং এটি স্থানীয় মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম ও দুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে—এমন আশায় দিন গুনছেন এলাকাবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত