দেশে হাম ও উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আবারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৭ শিশু মারা গেছে, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে এবং বাকি চারজনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও জটিলতা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ৪২৩ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ২৭৯ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৭৫ জন শিশু। এই বিপুল সংখ্যক সংক্রমণ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৪০৭ জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪২ হাজার ৩৩৬ জন শিশু। তবে এখনও বড় একটি অংশ চিকিৎসাধীন রয়েছে বা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে মোট ৪০৫ জন শিশু। অন্যদিকে নিশ্চিত হামের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৮৩ জনের। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮৮ জনে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করা, পুষ্টিহীনতা এবং চিকিৎসা বিলম্বিত হলে এই রোগ প্রাণঘাতী জটিলতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর ঝুঁকি বেশি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছু ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবায় দেরি বড় ভূমিকা রাখছে। তারা বলছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ ও ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও জরুরি চিকিৎসা সেবা জোরদার করার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গ্রামাঞ্চল ও শহরের কিছু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামের সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর, র‍্যাশ, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু চিকিৎসা নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত টিকাদান এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর খবর আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক সংকেত। বিশেষ করে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ায় বিষয়টি জাতীয় জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত