কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ৯ বার
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। এবার প্রায় চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদাররা। গত বছরের তুলনায় এবার লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বেশি হলেও বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী তা কম-বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেলায় মোট তিন লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টির মতো কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল গরুর চামড়া, যা দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণে ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের চামড়া শিল্প মূলত কোরবানির মৌসুমের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যেখানে বছরে সংগ্রহ হওয়া মোট চামড়ার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আসে ঈদুল আজহার সময়।

ব্যবসায়ীরা জানান, এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ফড়িয়া, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের মাধ্যমে পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া সংগ্রহ করা হবে। ঈদের দিন ও পরবর্তী কয়েক দিনে এই সংগ্রহ কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। সংগৃহীত চামড়া প্রথমে আড়তে এনে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে ট্যানারি শিল্পের কাছে বিক্রি করা হয়।

এবার সরকার কোরবানির চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে এবং গত বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম দুই টাকা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা দরে কেনা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

তবে আড়তদারদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দাম সম্পর্কে সাধারণ কোরবানিদাতা ও অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীর মধ্যে সঠিক ধারণা নেই। তারা মনে করেন, আড়তদাররা নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে থাকেন, কিন্তু বাস্তবে আড়তদারদের উপর সংরক্ষণ, পরিবহন ও শ্রমিক খরচের বড় চাপ থাকে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন জানান, প্রতিটি চামড়া সংগ্রহের পর লবণ দিয়ে সংরক্ষণ, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা ব্যয় হয়। চামড়া যদি ঢাকায় পাঠানো হয়, তাহলে এই ব্যয় আরও বেড়ে ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়ায়। ফলে বাজারে লাভের মার্জিন খুব সীমিত থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামের চামড়া মূলত স্থানীয় ট্যানারির পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ট্যানারিতে সরবরাহ করা হয়। তবে পরিবহন ও সংরক্ষণ খরচ বৃদ্ধির কারণে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা চাপের মুখে পড়েন।

এদিকে লবণের দাম বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আড়তদাররা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ৮ থেকে ১০টি চামড়া সংরক্ষণের জন্য একটি বস্তা লবণ প্রয়োজন হয়। তবে কোরবানির মৌসুমের আগে লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় বলে অভিযোগ তাদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসে যেখানে এক বস্তা লবণের দাম প্রায় ৫৮০ টাকা ছিল, সেখানে কোরবানির মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়ে প্রায় ৯৫০ টাকায় পৌঁছেছে। এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি চামড়া সংরক্ষণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে বলে তারা মনে করেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়তদার নেতারা।

অন্যদিকে চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে ভিন্ন মত। আড়তদারদের অভিযোগ, অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী সন্ধ্যার পর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সেগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করে পরে সমস্যার সৃষ্টি করেন। ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়।

তবে আড়তদাররা বলছেন, সঠিক সময়ে চামড়া সংরক্ষণ ও সকালবেলা আড়তে আনা গেলে এই সমস্যাগুলো অনেকাংশে কমে আসবে। তারা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, চামড়া যেন রোদে ফেলে বা অনুপযুক্তভাবে সংরক্ষণ না করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ে বাজারে আনা হয়।

চট্টগ্রাম চামড়া বাজার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে চামড়া শিল্প বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে। তবে বিভিন্ন সময় দাম নির্ধারণ, সংরক্ষণ ব্যয় ও বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে এই খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

সব মিলিয়ে এবার চট্টগ্রামে চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হলেও বাজার ব্যবস্থাপনা, লবণের দাম, সংরক্ষণ ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এবারও চামড়া খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত