জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে ১১ দলের সমাবেশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ৫৯ বার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ২টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নগরজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উৎসাহের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় নেতারাও বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য রাখেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে সামনে রেখেই এই আন্দোলন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

সমাবেশকে ঘিরে লালদিঘী ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক ধরনের সমাবেশমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। আয়োজকরা জানান, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

সূত্র জানায়, জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে গত ৩০ এপ্রিল লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক ও পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ১১ দলীয় ঐক্য বিভাগীয় শহরগুলোতে ধারাবাহিক সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় গত ১৬ মে। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো ১৩ জুন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী দিনে খুলনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল ও সিলেটসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে অক্টোবর মাসে ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

আন্দোলনকারী জোটের নেতারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নিশ্চিত করতে হলে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অপরিহার্য। তাদের দাবি, জুলাই সনদ সেই পথেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা তৈরি করেছে, যা বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনআস্থা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্তরে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিশ্চিত করা গেলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে তারা মত দেন।

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে ছিল।

চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ধারাবাহিক এই সমাবেশ কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় ঐক্যের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, গণভোট ও সংস্কার ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মতপ্রকাশের এই ধারাকে তারা রাজনৈতিক সক্রিয়তার অংশ হিসেবেও দেখছেন।

সমাবেশ শেষে নেতারা জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত