সর্বশেষ :
জীবননগরে আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ টানা পাঁচ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা, স্বস্তি মিলতে পারে তাপদাহ থেকে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি না করার সতর্কবার্তা অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুন কারখানা, রাষ্ট্রের কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে দুইজন কারাগারে কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া হামলা হলে ন্যাটোকে বিধ্বংসী জবাব দেবে রাশিয়া লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত ৪ ইসরাইলি সেনা, বাড়ছে উত্তেজনা সাঘাটায় যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার আড়াই ঘণ্টার পতাকা বৈঠকেও মিলল না ডিপজলের খোঁজ, উদ্বেগে পরিবার সাতক্ষীরায় পৃথক স্থান থেকে তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

কেন হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈরিতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক কখনোই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখানে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং বিশ্ব অর্থনীতি থেকে শুরু করে জ্বালানি বাজার পর্যন্ত এর প্রভাব অনুভূত হতে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি এবং ইসরাইলকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ধীরে ধীরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ওয়াশিংটনের প্রধান অভিযোগ ছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে অঞ্চলটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে তেহরান বারবার দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ।

তবে বিরোধ শুধু পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরেই নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধিও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক এবং ইয়েমেনে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত হিসাবকে জটিল করে তোলে।

যুদ্ধ শুরুর আগে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হুমকি এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার ফলে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

যুদ্ধের সময় ইরান যে বিষয়টি সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে, তা হলো হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে প্রণালিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক অস্থিরতা তৈরি হয়।

সংঘাত চলাকালে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন করে তোলে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এই চাপই যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়ার অন্যতম কারণ।

পরবর্তী সমঝোতা স্মারকে দেখা যায়, উভয় পক্ষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আলোচনা সামনে আসে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে এই সমঝোতাকে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি বলা যাচ্ছে না। বরং এটি একটি অস্থায়ী কাঠামো, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী কয়েক মাসে নতুন আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধটি কোনো পক্ষের জন্যই প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারেনি। যুদ্ধের শুরুতে যেসব উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার অনেক কিছুই অর্জিত হয়নি। বরং উভয় পক্ষকে অর্থনৈতিক, সামরিক এবং রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ইরান এই সংঘাতে নিজেদের টিকে থাকার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে বলে দেশটির সমর্থকরা দাবি করছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, সামরিক অভিযানের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও আগে অনুসরণ করা হলে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যেত।

লেবানন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এই যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। সংঘাতের প্রভাব সীমান্ত ছাড়িয়ে বিস্তৃত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ফলে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো দ্রুত উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেয়।

বিশ্ব রাজনীতিতে এই যুদ্ধের আরেকটি তাৎপর্য হলো, এটি আবারও দেখিয়েছে যে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভূরাজনীতি কতটা গভীরভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার প্রভাব বিশ্বের প্রায় সব অর্থনীতিতেই পড়ে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পারমাণবিক ইস্যু এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের জটিল সমন্বয়ের ফল। যদিও বর্তমানে একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছে, তবুও দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস পুরোপুরি দূর হয়নি। তাই বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক সংলাপই ভবিষ্যতে সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত