সর্বশেষ :
সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: নতুন যুগে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টারে ডিজিটাল রিয়েলটির ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক হলদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় দগ্ধ ৩০ স্ত্রী হত্যায় প্ররোচনা: কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা পোশাক ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার সরব উপস্থিতি এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বিনিয়োগ: সম্ভাবনা ও ঝুঁকি হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন

প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ সালমান নদভীর ইন্তেকাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ২৮ বার
প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ সালমান নদভীর ইন্তেকাল

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক, লেখক ও শিক্ষাবিদ মাওলানা সৈয়দ সালমান হুসাইনি নদভী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সোমবার (২৯ জুন) ভারতের লক্ষ্ণৌর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

তার মৃত্যুতে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেম সমাজ, ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক, শিক্ষার্থী ও অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি ইসলামি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, শিক্ষা ও দাওয়াহ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

মাওলানা সৈয়দ সালমান হুসাইনি নদভী ১৯৫৪ সালে ভারতের লক্ষ্ণৌতে এক ঐতিহ্যবাহী আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জ্ঞানচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্য বহনকারী এই পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। তার বংশপরিচয়কে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর বংশধারার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়।

শৈশব থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশে বড় হওয়া সালমান নদভী পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন। সেখান থেকেই তার প্রাতিষ্ঠানিক ইসলামি শিক্ষার পথচলা শুরু হয়।

দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় অধ্যয়নকালে তিনি কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৭৪ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ইসলামি জ্ঞান ও বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রের প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে তিনি একই প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ১৯৭৬ সালে হাদিস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

ইসলামি জ্ঞানের আরও বিস্তৃত অধ্যয়নের জন্য তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখানে তিনি প্রখ্যাত আলেম শেখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর তত্ত্বাবধানে হাদিস বিষয়ে গবেষণা করেন এবং ১৯৮০ সালে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষ করার পর সালমান নদভী আবার দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় তিনি সেখানে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তী সময়ে দাওয়াহ ও শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কাছে দেশ-বিদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী ইসলামি জ্ঞান, গবেষণা পদ্ধতি ও চিন্তাশীলতার শিক্ষা গ্রহণ করেন।

একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু পাঠ্যভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং সমসাময়িক বিশ্ব, ইতিহাস, সমাজ ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে ইসলামি চিন্তার সম্পর্ক নিয়েও শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দিতেন। তার বক্তৃতা ও লেখালেখিতে যুক্তি, গবেষণা এবং ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের সমন্বয় দেখা যেত।

সালমান নদভী ছিলেন একজন প্রভাবশালী লেখক ও গবেষক। আরবি ও উর্দু ভাষায় ইসলামি ইতিহাস, হাদিস, আকিদা এবং বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার লেখা বইগুলো উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপকভাবে পাঠ ও আলোচিত হয়েছে।

শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন। তিনি ‘জামিয়াত শাবাবুল ইসলাম’ নামের যুব সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন। তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি কাজ করে।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও তার আগ্রহ ছিল।

সমসাময়িক ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের স্পষ্ট মতামতের জন্যও সালমান নদভী পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তার বক্তব্য মুসলিম বিশ্বে আলোচিত হয়েছে। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নিজস্ব বিশ্লেষণ ও অবস্থান তুলে ধরতেন, যা অনেক সময় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তার চিন্তাধারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ইসলামি ঐতিহ্যকে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ করার চেষ্টা। তিনি মনে করতেন, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

তার ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন দেশের আলেম, ইসলামি শিক্ষার্থী ও তার অনুসারীরা তার অবদান স্মরণ করে দোয়া জানিয়েছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার লক্ষ্ণৌর নিকটবর্তী মালিহাবাদ এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি স্ত্রী, সন্তান, অসংখ্য ছাত্র, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মাওলানা সালমান নদভীর জীবন ছিল শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞান বিতরণের এক দীর্ঘ অধ্যায়। কয়েক দশকের কর্মজীবনে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করেছেন এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষা ও চিন্তাধারার অঙ্গনে সালমান নদভীর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার লেখা, গবেষণা এবং শিক্ষাদানের মাধ্যমে তিনি যে জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত