সর্বশেষ :
সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: নতুন যুগে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টারে ডিজিটাল রিয়েলটির ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক হলদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় দগ্ধ ৩০ স্ত্রী হত্যায় প্ররোচনা: কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা পোশাক ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার সরব উপস্থিতি এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বিনিয়োগ: সম্ভাবনা ও ঝুঁকি হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন

হার্ডওয়্যারের দোকানে মিলল ২৮ কেজির অজগর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৩০ বার
হার্ডওয়্যারের দোকানে মিলল ২৮ কেজির অজগর

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জনবহুল একটি বাজারের হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৮ কেজি ওজনের একটি বিশাল অজগর সাপ। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় এমন বড় আকারের অজগর লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল ও আতঙ্ক। পরে বন বিভাগের সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে সুন্দরবনের নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করেন।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বন বিভাগ ও সুন্দরবনের কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা অজগরটি উদ্ধার করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নীলডুমুর বাজারের একটি হার্ডওয়্যারের দোকান সকালে খুলতে যান ব্যবসায়ী হারুন। দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেই তিনি দেখতে পান, এক কোণে বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ অবস্থান করছে। হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান।

হারুনের ডাক শুনে পাশের দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সেখানে জড়ো হন। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে দোকানের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই এত বড় অজগর দেখতে সেখানে ছুটে আসেন।

তবে স্থানীয়রা সাপটিকে ধরার চেষ্টা না করে বন বিভাগকে খবর দেন। পরে বন বিভাগের কর্মী ও সিপিজি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ কৌশলে অজগরটি উদ্ধার করেন। উদ্ধার অভিযানে সাপটির কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা অজগরটির ওজন প্রায় ২৮ কেজি। সাপটি সুস্থ ছিল এবং উদ্ধারের পর তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে সেটিকে সুন্দরবনের উপযুক্ত আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন জানান, অজগরটি উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এটি সুস্থ থাকায় পরে সুন্দরবনের নিরাপদ এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সুন্দরবন একটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানকার বন্য প্রাণীরা অনেক সময় খাবারের সন্ধান, নিরাপদ আশ্রয় বা পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রাণীটির নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নীলডুমুর বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকায় এর আগে এত বড় অজগর দেখা যায়নি। বাজারের দোকানের ভেতরে অজগরটির উপস্থিতি তাদের জন্য ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তবে সুন্দরবন কাছাকাছি হওয়ায় মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বন্য প্রাণী লোকালয়ের আশপাশে দেখা যায়।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, অজগর সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণাত্মক হয় না। তারা মূলত নিজেদের নিরাপত্তা এবং খাবারের প্রয়োজনেই চলাফেরা করে। বসতি এলাকায় ঢুকে পড়লে মানুষের ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক হলেও সাপকে আঘাত না করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এই বন শুধু রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা হরিণের আবাসস্থল নয়, এখানে রয়েছে নানা প্রজাতির সরীসৃপ, পাখি ও অন্যান্য বন্য প্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণীরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অজগর সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই বন বিভাগের কর্মকর্তারা সবসময় এসব প্রাণী সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় মানুষের বসতি ও কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ও বন্য প্রাণীর সংঘাতের ঘটনাও বাড়ছে। এ ধরনের সংঘাত কমাতে স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বন বিভাগের সহায়তা নেওয়া জরুরি।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কোথাও বন্য প্রাণী দেখা গেলে তাকে ধরার চেষ্টা বা আঘাত না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এতে যেমন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনি বন্য প্রাণীর জীবনও রক্ষা পাবে।

নীলডুমুর বাজারের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য শুধু বনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব আশপাশের জনপদেও রয়েছে। মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতা, সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২৮ কেজি ওজনের অজগরটির নিরাপদে উদ্ধার ও সুন্দরবনে ফিরে যাওয়া স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ভূমিকার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত