ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ছাড়াল ১ বিলিয়ন ডলার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার
ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ছাড়াল ১ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ:  ০১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্থিক সাম্রাজ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা। গত বছর ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টো খাত থেকে তিনি এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছেন বলে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একসময় যে খাতকে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছিলেন, সেই ক্রিপ্টোকারেন্সিই এখন তার আয়ের অন্যতম বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ৯২৭ পৃষ্ঠার একটি আর্থিক ঘোষণাপত্রে ট্রাম্প তার বিভিন্ন ব্যবসায়িক আয় ও সম্পদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয় তার প্রচলিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই বিপুল আয়ের বড় অংশ এসেছে তার নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা প্রকল্প এবং পারিবারিকভাবে পরিচালিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো ‘ট্রাম্প মিম কয়েন’। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র কয়েক দিন আগে চালু হওয়া এই ডিজিটাল মুদ্রা থেকে তিনি রয়্যালটি বাবদ প্রায় ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে ওই মিম কয়েনের মূল্য অনেকটাই কমে গেছে। ক্রিপ্টো বাজারে সাধারণত এ ধরনের ডিজিটাল সম্পদের মূল্য ব্যাপক ওঠানামা করে। ফলে এর বর্তমান বাজারমূল্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে।

ট্রাম্পের ক্রিপ্টো আয়ের আরেকটি বড় উৎস হলো ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ নামের একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ট্রাম্প পরিবার এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সম্পর্ক রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রাম্প ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন বলে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আয়ের তথ্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, একজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং সরকারি দায়িত্বের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার ব্যবসায়িক সম্পদ ছেলেদের পরিচালিত ট্রাস্টের অধীনে রেখেছেন। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নীতিগুলো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন এবং এই খাতের বিকাশ দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ট্রাম্পের আর্থিক বিবরণীতে শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সি নয়, তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক খাতগুলোর আয়ও উঠে এসেছে। রিয়েল এস্টেট, গলফ ক্লাব, ব্র্যান্ড পণ্য এবং বিভিন্ন লাইসেন্স চুক্তি থেকেও তার আয় উল্লেখযোগ্য।

ফ্লোরিডার ডোরালের গলফ ক্লাব থেকে ট্রাম্প প্রায় ১২২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার বিখ্যাত মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে এসেছে প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ডলার। নিউ জার্সির বেডমিনস্টার, ফ্লোরিডার জুপিটার এবং স্কটল্যান্ডের টার্নবেরি গলফ ক্লাব থেকেও তার আয় ছিল কয়েক কোটি ডলার করে।

এ ছাড়া ট্রাম্প ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য বিক্রি থেকেও উল্লেখযোগ্য অর্থ এসেছে। ট্রাম্প ব্র্যান্ডের ঘড়ির রয়্যালটি থেকে প্রায় ৪৭ লাখ ডলার আয় হয়েছে। পাশাপাশি তার নাম ব্যবহার করে বাজারজাত করা বাইবেল, স্নিকার, সুগন্ধি ও গিটার থেকেও এসেছে আয়।

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আর্থিক তথ্যও একই ঘোষণাপত্রে প্রকাশ করা হয়েছে। নিজের জীবন নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের লাইসেন্স চুক্তি থেকে তিনি প্রায় ১০ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি বা এনএফটি বিক্রি থেকেও তার প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে।

ট্রাম্পের বিভিন্ন আইনি লড়াইয়ের নিষ্পত্তি থেকেও এসেছে বড় অঙ্কের অর্থ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হওয়া মামলার সমঝোতার মাধ্যমে তিনি কয়েক কোটি ডলার পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে এবিসি নিউজ থেকে ১৬ মিলিয়ন ডলার, সিবিএস থেকে ১৬ মিলিয়ন ডলার, মেটা থেকে ২৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, ইউটিউব থেকে ২২ মিলিয়ন ডলার এবং এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে ৮ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার তথ্য রয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এসব অর্থের বড় অংশ ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি এবং ওয়াশিংটনের পার্ক রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের ক্রিপ্টো যাত্রা বিশেষভাবে আলোচিত, কারণ কয়েক বছর আগেও তিনি এই খাতের কঠোর সমালোচক ছিলেন। তিনি একসময় বিটকয়েনকে প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং ডিজিটাল মুদ্রার স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার অবস্থানে বড় পরিবর্তন আসে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো শিল্পের প্রসারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ক্রিপ্টো ব্যবসায় প্রবেশ শুধু ব্যক্তিগত আয়ের বিষয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতি ও প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে সমর্থকরা এটিকে নতুন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ভারসাম্য নিয়ে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রিপ্টো আয় বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল মুদ্রার দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারে এই আয় কতটা স্থায়ী হবে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতদূর গড়াবে, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত