প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মাত্র সাত বছর বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো সেই ছোট্ট মেয়েটি আজ হলিউডের অন্যতম আলোচিত তরুণ অভিনেত্রী। বয়স মাত্র ২৪ বছর, কিন্তু অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা যেন তার চেয়েও অনেক বেশি। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ Stranger Things–এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া মার্কিন অভিনেত্রী Sadie Sink এবার হাজির হয়েছেন আরও বড় এক মঞ্চে। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা Spider-Man: Brand New Day–এ অভিনয় করে তিনি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে।
স্যাডি সিঙ্কের জন্য এটি শুধু আরেকটি সিনেমা নয়, বরং ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে, শিখিয়েছে এবং বড় করেছে; আর ‘স্পাইডার–ম্যান’ তাঁকে আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দেবে।
শৈশব থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত স্যাডি। মাত্র সাত বছর বয়সে ভাইয়ের সঙ্গে ডিজনির একটি সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। এরপর দশ বছর বয়সে তিনি মঞ্চনাটকে অভিনয় শুরু করেন। ছোট বয়সেই ক্যামেরা, মঞ্চ এবং অভিনয়ের কঠিন অনুশীলনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ২০১৬ সালে। তখন নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ সিরিজে ম্যাক্স মে ফিল্ড চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। চরিত্রটি দ্রুত দর্শকের মন জয় করে এবং স্যাডি রাতারাতি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান।
‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ নিয়ে স্যাডি বলেন, এই সিরিজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। দীর্ঘ সময় ধরে একই দলের সঙ্গে কাজ করার কারণে এটি শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, এই সিরিজ তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। অসাধারণ সব সহশিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। কখনো কাজের আনন্দ পেয়েছেন, কখনো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে তাঁর মতে, জীবনে থেমে থাকার সুযোগ নেই, নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যেতে হয়।
এই নতুন অধ্যায়েরই অংশ ‘স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। সিনেমাটি মুক্তির আগে স্যাডির চরিত্র নিয়ে ছিল নানা জল্পনা। তবে মুক্তির পর জানা যায়, তিনি অভিনয় করেছেন জিন গ্রে চরিত্রে। এই চরিত্রের মাধ্যমে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে এক্স-মেনের নতুন গল্পের পথ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জিন গ্রে চরিত্রটি মার্ভেল কমিকসের অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র। তাঁর বিশেষ ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে মানুষের মন নিয়ন্ত্রণ করা এবং অতিমানবীয় শক্তির ব্যবহার। সিনেমায় দেখা যায়, এই চরিত্রটি ডিপার্টমেন্ট অব ড্যামেজ কন্ট্রোলের একটি গোপন স্থানে প্রবেশের চেষ্টা করছে, যেখানে লুকিয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ একটি রহস্য।
স্যাডির জন্য মার্ভেল জগতে প্রবেশ ছিল বড় ধরনের পরিবর্তন। তিনি জানান, নতুন হিসেবে এই বিশাল ইউনিভার্সে যুক্ত হলেও পুরো দল তাঁকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ছবির প্রধান অভিনেতা Tom Holland তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কাজের পরিবেশ সহজ করে দিয়েছেন।
স্যাডি বলেন, নতুন একটি দলে যোগ দেওয়া সব সময় চ্যালেঞ্জের। কিন্তু এই সিনেমার পুরো ইউনিট তাঁকে পরিবারের মতো অনুভব করিয়েছে।
অভিনেত্রী আরও জানান, এই চরিত্রের জন্য তাঁকে প্রচলিত অডিশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। পরিচালক Destin Daniel Cretton–এর সঙ্গে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁকে সরাসরি এই চরিত্রের জন্য বিবেচনা করা হয়। ২০১৭ সালের চলচ্চিত্র The Glass Castle–এ তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল।
‘স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তির পর বক্স অফিসেও বড় সাড়া ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মুক্তির পর প্রথম দিনেই সিনেমাটি উত্তর আমেরিকায় বিপুল আয় করেছে এবং উদ্বোধনী আয়ের দিক থেকে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল Avengers: Endgame–এর দখলে।
মার্ভেলের মতো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যুক্ত হওয়া তরুণ অভিনেতাদের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এর আগে অনেক অভিনেতাই সুপারহিরো সিনেমার মাধ্যমে নতুন দর্শকশ্রেণির কাছে পৌঁছেছেন। স্যাডি সিঙ্কের ক্ষেত্রেও এমন সম্ভাবনা দেখছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা।
তবে স্যাডির ক্যারিয়ার শুধু জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। নাটকীয় চরিত্র থেকে শুরু করে কল্পনাভিত্তিক গল্প—বিভিন্ন ঘরানায় তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা হয়েছে।
‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর ম্যাক্স চরিত্র তাঁকে জনপ্রিয়তা দিয়েছে, কিন্তু ‘স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ তাঁকে নতুন পরিচয়ের সুযোগ করে দিয়েছে। এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি শুধু একটি বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে প্রবেশ করেননি, বরং প্রমাণ করেছেন যে তরুণ বয়সেও দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় অভিনয় ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব।
স্যাডি সিঙ্কের যাত্রা এখনো অনেক দূর। ছোট বয়সে শুরু হওয়া সেই পথচলা তাঁকে নিয়ে এসেছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র জগতের কেন্দ্রে। সামনে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে আরও নতুন চরিত্র, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নতুন সম্ভাবনা।