রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদকে প্রার্থী করল ১১ দল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৯ বার

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট, ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। জোটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (এমডিপি)-এর চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীতে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে জোটের নেতারা এ ঘোষণা দেন।

১১ দলীয় জোটের নেতারা জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে সামনে রেখে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি বিবেচনায় কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে তাঁরা কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।

কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত একটি নাম। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন এবং বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ও আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জোটের নেতারা জানিয়েছেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। সরকারি দল থেকেও রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশিত হলেও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত তখনও প্রকাশিত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। পরে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, আপত্তি নিষ্পত্তি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন, তাহলে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা সম্ভব।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে অনুষ্ঠিত হয় না। জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে সংসদে যে রাজনৈতিক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাদের সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। তবে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। যদিও সংসদে আসনসংখ্যার বাস্তবতা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবুও বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি তাদের অবস্থান এবং রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের আরেকটি পর্যবেক্ষণ হলো, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিচারপতি নিয়োগ, আইন অনুমোদন, সংসদ অধিবেশন আহ্বান এবং সংবিধান নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

১১ দলীয় জোটের নেতারা বৈঠক শেষে বলেন, তাঁরা একটি শান্তিপূর্ণ, সাংবিধানিক এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। নির্বাচন কমিশন যেন নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুসারে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, সেই আহ্বানও জানান তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মনোনয়নপত্র জমা এবং যাচাই-বাছাইয়ের পরই চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপরই স্পষ্ট হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে কি না, নাকি কোনো প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা যতই বাড়ুক না কেন, শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই হবে চূড়ান্ত নির্ধারক। তাই মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সব সম্ভাব্য প্রার্থীকেই নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com