প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠক

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৯ বার
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠক
প্রকাশ:  ১৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্ব অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করার প্রচেষ্টা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই দূরদর্শী ভাবনার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং মার্কিন করপোরেট জগতের প্রতিনিধিরা। গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব কার্যালয়ে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও ফলপ্রসূ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন উভয় পক্ষের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা। বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক বৈঠক দেশের শিল্পায়নের পথকে আরও মসৃণ করবে বলেই আশা প্রকাশ করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। আমন্ত্রিত হয়ে আসা ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের এই প্রতিনিধিদলটিতে প্রায় অর্ধশত অর্থাৎ ৫০ জন প্রভাবশালী সদস্য সরাসরি অংশ নেন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্পোরেশন এবং বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের এই উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ওপর তাঁদের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিনিধিদলে বিশ্বের নামকরা সব কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা দেশের ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন বিনিয়োগকারীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক বাণিজ্যের মানচিত্রে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অত্যন্ত লোভনীয় ও সম্ভাবনাময় একটি বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে, যেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ সুরক্ষায় বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই সুবৃহৎ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট তথা ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপ। তাঁদের মতো অভিজ্ঞ বাণিজ্য ব্যক্তিত্বদের এই সরব উপস্থিতি দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মার্কিন কোম্পানির তালিকায় ছিল বর্তমান বিশ্বের টেক জায়ান্ট মেটা থেকে শুরু করে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং, জ্বালানি খাতের দানব শেভরন, আর্থিক খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং জীবন বীমা খাতের মেটলাইফের মতো বিশ্বখ্যাত ২৫টি প্রথম সারির বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা। এতগুলো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা একসঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ায় দেশের বিনিয়োগ খাতের জন্য এক বিরাট সাফল্যের দরজা উন্মোচিত হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর সম্মানিত উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরকারি মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, মূল আলোচনাটি আবর্তিত হয়েছে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ কীভাবে বহুগুণ বৃদ্ধি করা যায় এবং মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য বর্তমান সরকার কী ধরনের সহজ শর্ত ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে তা নিয়ে। মার্কিন এই শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধানরা বাংলাদেশের উৎপাদন খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, এভিয়েশন এবং আর্থিক সেবা খাতে নতুন করে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী নীতি সহায়তা এবং ব্যবসা সহজীকরণ বা ডুয়িং বিজনেস সূচকে উন্নতির নানা দিক মার্কিন প্রতিনিধিদলের সামনে সবিস্তারে তুলে ধরা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা মুক্ত পরিবেশ দেওয়ার জোরালো প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে।
বৈঠক চলাকালীন ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেন যে আজকের এই বৈঠকে যে ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রতিনিধিরা সশরীরে অংশ নিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে অন্যতম প্রধান ও সফল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি শক্তিশালী ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আত্মপ্রকাশ ঘটানো। এই বিশাল ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বেসরকারি খাতের সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত বিনিয়োগ এবং অত্যাধুনিক কারিগরি জ্ঞান বা প্রযুক্তির স্থানান্তর অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন উৎসাহব্যঞ্জক ও ইতিবাচক সূচকগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মন জয় করার জন্য যথেষ্ট এবং তা অদূর ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বিদেশি পুঁজি আকৃষ্ট করবে।
উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারক সরাসরি উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেশের অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী খন্দকার খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথা বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সরকারের এই পুরো অর্থনৈতিক টিম একসঙ্গে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সামনে দেশের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রটি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের বৈঠকটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক সুদূরপ্রসারী ও মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com