৫৫০ মিলিয়ন ডলারে লালদিয়া টার্মিনালের যাত্রা শুরু

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিতব্য এই টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে রোববার (৩০ আগস্ট) পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বিদেশি বিনিয়োগে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।

সকাল ১১টায় আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

ডেনিশ শিপিং জায়ান্ট এপি মোলার-মায়েরস্কের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস বিভি এই প্রকল্পে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি চুক্তির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৮ লাখ টিইইউর বেশি বাড়বে। ২০ ফুট সমপরিমাণ কনটেইনারের একক টিইইউ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন সক্ষমতা বন্দরের বর্তমান মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতার প্রায় ২৩ শতাংশের সমান।

কর্ণফুলী নদীর তীরে ৪৯ দশমিক ১৫ একর জায়গার ওপর লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে মূল টার্মিনালের জন্য ৩২ একর, কনটেইনার ইয়ার্ডের জন্য ৭ দশমিক ১৫ একর এবং ট্রাক পার্কিংয়ের জন্য ১০ একর জমি বরাদ্দ রয়েছে।

এপিএম টার্মিনালস ‘ডিজাইন, বিল্ড, ফিন্যান্স, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার’ বা ডিবিএফওটি মডেলে টার্মিনালটি উন্নয়ন ও পরিচালনা করবে। নির্মাণকাজ শেষ করতে সময় ধরা হয়েছে তিন বছর। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ৩০ বছরের পরিচালনা চুক্তি হয়েছে, যা পরবর্তীতে আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

পুরোদমে চালু হলে লালদিয়া টার্মিনালে সরাসরি ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে যেসব জাহাজ ভিড়তে পারে, নতুন টার্মিনালে তার প্রায় দ্বিগুণ সক্ষমতার জাহাজ পরিচালনা করা যাবে।

টার্মিনালটিতে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি থাকবে। পণ্য ওঠানামার জন্য স্থাপন করা হবে সাতটি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার-টাইয়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্রাক্টর।

বিদ্যুৎচালিত সরঞ্জাম ও আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং প্রযুক্তির ব্যবহার টার্মিনালটিকে তুলনামূলক পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তুলবে। বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুবিধার কারণে বন্দরে জাহাজের অপেক্ষার সময় এবং পণ্য খালাসের সময় কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের প্রথম তিন বছরে নির্মাণ, সরঞ্জাম স্থাপন ও আনুষঙ্গিক কাজে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এপিএম টার্মিনালস। চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শুরুতেই ২৫ মিলিয়ন ডলার অগ্রিম পাবে।

এর পাশাপাশি সিপিএ বার্ষিক ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার কনসেশন ফি পাবে। প্রতিটি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ২১ ডলার করে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ৯ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে গেলে প্রতি কনটেইনারের ফি বেড়ে ২৩ ডলার হবে।

লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্পটি কয়েক বছর ধরেই প্রক্রিয়াধীন ছিল। ২০২১ সালের জুনে পিপিপি কাঠামোর আওতায় প্রকল্পে সহযোগিতা সহজ করতে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএম টার্মিনালস বিভির মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায়ও গতি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এদিকে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি মনে করেন, এই বিনিয়োগ বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও লাভজনক গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।

২৯ আগস্ট এপিএম টার্মিনালসের চেয়ারম্যান রবার্ট মায়েরস্ক উগলার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আমিরুল হক বলেন, ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ বাংলাদেশে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টার্মিনাল অপারেটরের বাংলাদেশে উপস্থিতি অন্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা তৈরি করবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের বে-টার্মিনাল, জাহাজ নির্মাণ এবং বড় শিল্প প্রকল্পে আরও বিনিয়োগের জন্য এপিএম টার্মিনালস ও এপি মোলার-মায়েরস্ককে আহ্বান জানান তিনি।

আমিরুল হক ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার সরকারি লক্ষ্যে অবদান রাখার জন্য প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতি আহ্বান জানান। লালদিয়া টার্মিনালের দ্রুত বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত