মুনাফা বাড়ায় ওয়ালটনের ১৯০% লভ্যাংশ ঘোষণা

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিক্স খাতের প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মোট ১৯০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ১৮০ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার পর লভ্যাংশ ঘোষণার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কোম্পানির প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১৮ টাকা নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি ১০টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি বোনাস শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ওয়ালটনের আর্থিক ফলাফলেও উন্নতির চিত্র দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়ে ৩৩ দশমিক ৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে ইপিএস ছিল ৩১ দশমিক ১১ টাকা।

কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অর্থায়ন ব্যয় কমে যাওয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওয়ালটনের অর্থায়ন ব্যয় ২৬৭ দশমিক ২৬ কোটি টাকা কমে মোট বিক্রয়ের ২ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমেছে। আগের অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল ৪৪৮ দশমিক ৪০ কোটি টাকা, যা মোট বিক্রয়ের ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশের সমান।

অর্থায়ন ব্যয় কমার পাশাপাশি কোম্পানিটির নগদ প্রবাহেও উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো বা এনওসিএফপিএস বেড়ে ৬৩ দশমিক ৭২ টাকায় উন্নীত হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৫২ দশমিক ৯১ টাকা।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বকেয়া আদায় ৬৯৪ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের পরিমাণ ২ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে। এ দুই কারণে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে ওয়ালটন।

২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, পুনর্মূল্যায়নসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি দাঁড়িয়েছে ৩৮১ দশমিক ২৬ টাকা। এক বছর আগে এই পরিমাণ ছিল ৩৬৩ দশমিক ৪০ টাকা। তবে পুনর্মূল্যায়ন বাদ দিলে শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ২৮০ দশমিক ২৪ টাকা।

প্রস্তাবিত স্টক লভ্যাংশের ব্যবহার নিয়েও পরিকল্পনা জানিয়েছে কোম্পানিটি। ওয়ালটনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশের মাধ্যমে সৃষ্ট মূলধন বিএমআরই বা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত ‘গ্রিন এনার্জি প্রজেক্ট’-এর সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করা হবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে ওয়ালটন। প্রস্তাবিত লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম আগামী ১৫ অক্টোবর দুপুর ১২টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মুনাফা বৃদ্ধি, অর্থায়ন ব্যয় কমে যাওয়া এবং পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহের উন্নতির পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বড় অঙ্কের নগদ ও স্টক লভ্যাংশের প্রস্তাব করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পরই লভ্যাংশ বিতরণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত