রংপুর-রাজশাহীর যেসব এলাকায় আজ বিদ্যুৎ থাকবে না

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮১ বার
রংপুর-রাজশাহীর যেসব এলাকায় আজ বিদ্যুৎ থাকবে না

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জরুরি উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রংপুর ও রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাছাকাছি থাকা গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তন এবং সংশ্লিষ্ট লাইনে নিরাপদে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি—নেসকো। এতে রংপুর ও রাজশাহীর বেশ কিছু এলাকার গ্রাহককে নির্ধারিত সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নেসকোর রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার সময়সূচি জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত উন্নয়ন ও নিরাপত্তামূলক কাজ শেষ করার জন্যই এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা। কাজ দ্রুত শেষ হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হতে পারে।

রংপুরে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে নেসকো রংপুরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিকটবর্তী গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তনের কাজের জন্য শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট নয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এই সময় নেসকো রংপুর দপ্তরের ১১ কেভি মেডিক্যাল ফিডারের আওতাধীন গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবেন।

বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে গাছের ডালপালা বেড়ে গেলে তা সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে সংস্পর্শে এসে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঝড়-বৃষ্টি বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এসব শাখা-প্রশাখা বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময় পরপর লাইনের আশপাশের গাছপালা ছাঁটাই করার প্রয়োজন হয়। রংপুরে শুক্রবারের নির্ধারিত কাজও এই ধরনের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ।

এদিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরেও নির্দিষ্ট সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। হাসপাতাল এলাকায় একই পোলে ডুয়েল সোর্স লাইন থাকায় গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তনের জন্য শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা ১১ কেভি মেডিক্যাল ও আরকে রোড—এই দুটি ফিডার বন্ধ রাখা হবে।

হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব বহন করে। এ ধরনের স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট ফিডার বন্ধ রাখা প্রয়োজন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সময়ের পর সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।

অন্যদিকে রাজশাহীতেও শুক্রবার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। নেসকো রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১১ কেভি লাইনের নিকটবর্তী গাছপালার শাখা-প্রশাখা কর্তনের কাজের জন্য সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।

রাজশাহীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার তালিকায় রয়েছে রুয়েট ক্যাম্পাস, ভার্সিটি ক্যাম্পাস, সাগরপাড়া, বোষপাড়া, মুহাম্মদপুর টিকাপাড়া, খুলিপাড়া, সেখেরচক, পঞ্চবটি এবং এসব এলাকার সংলগ্ন অঞ্চল। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। ফলে আবাসিক গ্রাহকের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনাও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংকটে পড়তে পারে।

রাজশাহী শহরের যেসব এলাকায় কাজটি হবে, তার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল অঞ্চল রয়েছে। ফলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে পানির পাম্প, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণকাজ দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধা হলেও কাজটির উদ্দেশ্য মূলত ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার নিরাপত্তা বাড়ানো। বিদ্যুৎ লাইনের খুব কাছাকাছি থাকা গাছের ডালপালা নিয়মিতভাবে ছাঁটাই করা না হলে ঝড়ো হাওয়া কিংবা ভারী বৃষ্টির সময় তা লাইনে পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি করতে পারে। কখনো কখনো এমন ঘটনা বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা বা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই আগাম ব্যবস্থা হিসেবে গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তনের কাজ করা হয়ে থাকে।

এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা শুধু কাজের সুবিধার জন্য নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তার জন্যও জরুরি। বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় লাইন সচল থাকলে কর্মীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট ফিডার বন্ধ রেখে কাজ সম্পন্ন করা বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদ্ধতি।

নেসকোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। অর্থাৎ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা সময় সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সময় হিসেবে ধরা হলেও কাজ দ্রুত শেষ হলে গ্রাহকদের অপেক্ষার সময় কমতে পারে। তবে নিরাপত্তার কারণে কাজ চলাকালে নির্ধারিত ফিডার চালু না রাখাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য নিরাপদ পদ্ধতি।

বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সাধারণত গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার কারণ হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল রয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা কমানো যায়। এতে ভবিষ্যতে গ্রাহকেরা আরও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সেবা পাওয়ার সুযোগ পান।

বর্তমান সময়ে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতাও অনেকের দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ কারণে রক্ষণাবেক্ষণকাজের সময়সূচি আগেই জানিয়ে দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকেরা নিজেদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেন।

নেসকোর বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্পষ্ট হয়েছে।

শুক্রবার রংপুর ও রাজশাহীর যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে, সেখানে গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের বিষয়টি মাথায় রেখে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ আগেভাগে সম্পন্ন করা এবং বিদ্যুৎনির্ভর কার্যক্রমের সময়সূচি সামঞ্জস্য করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ নয় ঘণ্টার বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়া রংপুরের গ্রাহকদের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নেসকোর এই সাময়িক বিদ্যুৎ বন্ধের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কাজের অগ্রগতি ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির ওপর সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে। কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হলো নির্ধারিত কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা। সাময়িক এই ভোগান্তি পেরিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করাই এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের প্রধান উদ্দেশ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com