সাথী আক্তারের মুক্তি দাবি জামায়াতের মহিলা বিভাগের

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ বার
সাথী আক্তারের মুক্তি দাবি জামায়াতের মহিলা বিভাগের

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ময়মনসিংহের ভালুকায় নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। বুধবার, ২৮ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি এ প্রতিবাদ জানান। তিনি সাথী আক্তারের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেছেন।

বিবৃতিতে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপ্রকাশের অধিকার একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। জনপ্রতিনিধি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে না পারলে নাগরিকেরা তাঁর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে পারেন। এ কারণে কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার মুখে ফেলা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের এই নেত্রী অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করার পর সাথী আক্তারকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর মতে, এ ঘটনা ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে ঘটনাটির বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশি বক্তব্য অনুযায়ী, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের বিষয়বস্তু, তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির অভিযোগ এবং স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট উত্তেজনা—সবকিছু মিলিয়েই তাঁকে আটক করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশ তাঁর বক্তব্যে সরকারবিরোধী কোনো মন্তব্য পায়নি বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটিকে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিণতি হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। 

প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাথী আক্তার ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ পরিচালনা করেন। নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন বলে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি দুটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিও দুটিতে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভের কথা উঠে আসে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সংযোগের তারও চুরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ব্যবসা পরিচালনার দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতার পরও ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাথী আক্তার নিজের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন। একটি পর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বিএনপিকে ভোট দিয়েও তাঁকে এখন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে লোকজন জড়ো হন এবং তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে সাথী আক্তারের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনাকে সামনে আনা হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর ক্ষোভের সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক ক্ষতির প্রসঙ্গও যুক্ত ছিল। ফলে পুরো ঘটনা বুঝতে হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের পাশাপাশি এর পেছনের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ভালুকায় সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে পুলিশ সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরদিন, ২৬ অক্টোবর তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ময়মনসিংহের আদালতে পাঠানো হয়।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের ভিডিও তিনি একাধিকবার পর্যালোচনা করেছেন। ভিডিওতে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাননি বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।

ঢাকা ট্রিবিউন ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে পুলিশের বক্তব্যের বরাতে বলা হয়েছে, সাথী আক্তারের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর বিষয়টি তাঁর হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের এই বক্তব্য ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনে। একদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর একজন নারী উদ্যোক্তাকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়, অন্যদিকে পুলিশ বলেছে, তাঁর ভিডিওতে সরকারবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কোনো বক্তব্যে অপরাধের উপাদান রয়েছে কি না, কিংবা জনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ আইনসম্মত ছিল কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, পরিস্থিতি এবং আদালতের নথি গুরুত্বপূর্ণ।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কারা কী ভূমিকা রেখেছেন, উত্তেজনার মাত্রা কতটা ছিল এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য কী—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে এলে ঘটনাটি আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

সাথী আক্তারকে ২৬ অক্টোবর ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজেদুল ইসলামের আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা মূলত সম্ভাব্য আমলযোগ্য অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পুলিশের প্রতিরোধমূলক ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা সম্পর্কে পুলিশের যুক্তিসংগত আশঙ্কা থাকলে এবং তা প্রতিরোধের প্রয়োজন দেখা দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনি শর্ত, প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যক্তির অধিকার বিবেচনা করা জরুরি।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় আলাদা কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে স্পষ্টতা ছিল না। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে ভালুকা মডেল থানার ওসির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ভিডিও পর্যালোচনার পর তিনি সরকারবিরোধী বক্তব্য পাননি এবং তখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও দায়ের হয়নি।

অন্যদিকে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশের বিস্তারিত নথি, জামিন আবেদনের অবস্থা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে মামলার বর্তমান অবস্থান আরও পরিষ্কার হবে। গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর ঘটনা নিজে থেকেই কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না; অভিযোগের আইনগত ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণের মূল্যায়ন বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়।

সাথী আক্তারের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিকেরা তাঁদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, ব্যবসায়িক ক্ষতি, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে মতামত প্রকাশ করতে পারেন। তবে সেই মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন প্রযোজ্য হলে তার মূল্যায়নও হতে হবে আইনসম্মত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতিতে।

একইভাবে কোনো বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জনসমাগম, উত্তেজনা কিংবা সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখা। এ ক্ষেত্রে বক্তব্যদাতা, প্রতিবাদকারী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

জামায়াতের মহিলা বিভাগ মনে করছে, সাথী আক্তারের ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। সংগঠনটি অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বিবৃতিতে আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।

তবে সংগঠনটির এই বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে পুলিশের নথি, আদালতের আদেশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

সাথী আক্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রে এখন কয়েকটি বিষয় রয়েছে—তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার যথাযথ আইনি ভিত্তি কী ছিল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির অভিযোগগুলোর তদন্ত কত দূর এগিয়েছে, উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল এবং তাঁর জামিন বা মুক্তির বিষয়ে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত এসেছে কি না।

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা বক্তব্যের খণ্ডিত অংশের বদলে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই করে সংবাদ পরিবেশন করাও জরুরি।

একজন নারী উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত মর্যাদা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ—প্রতিটি বিষয়ই জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা অবস্থানের ভিত্তিতে আগাম সিদ্ধান্তে না পৌঁছে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য যাচাই করা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব।

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ সাথী আক্তারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। তবে ২৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত তাঁর মুক্তি, জামিন কিংবা মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে এই প্রতিবেদনের জন্য নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। তাই তাঁর বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com