সর্বশেষ :
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিক নিহত আগামী বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে সংগ্রাম, সাহস ও সাফল্যের সাতকাহন: বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীর অনুপ্রেরণার গল্প অস্ট্রেলিয়াকে বিব্রতকর ইতিহাস উপহার দিল বাংলাদেশ বাজেটে এবারও থাকছে কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ জনগণের কল্যাণে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান এমরান সালেহ প্রিন্সের নোয়াখালীতে মাদকের প্রতিবাদে স্কুলছাত্র খুন, এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক তিস্তার পানি বাড়ছে, লালমনিরহাটে বন্যার শঙ্কা মাস্কের প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বোনাস, ৪ হাজার ৪০০ কর্মী হচ্ছেন মিলিয়নেয়ার বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০ জনে ১ জন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমতায় ছাত্রশিবির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমতায় ছাত্রশিবির

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অবস্থান শক্ত করা ইসলামী ছাত্রশিবির এবার প্রকাশ্যে রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান দেখিয়েছে। গত বছর ৫ আগস্ট ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য রাজনীতি শুরু করার এক বছরের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে তারা প্রাধান্য অর্জন করেছে।

গত মঙ্গলবার শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল ডাকসুর ২৮ পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়লাভ করেছে। সম্পাদকীয় ১২টি পদের মধ্যে ৯টিতে এবং ১৩টি সদস্য পদের মধ্যে ১১টিতে শিবিরের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ডাকসুর নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৯টি প্যানেলের মধ্যে শিবিরের বাইরে মাত্র একটি প্যানেলের এক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। সাত বামপন্থি সংগঠনের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’-এর প্রার্থী হেমা চাকমা সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনের শীর্ষ তিন পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থীদের সঙ্গে মূলত ছাত্রদলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম ১৪,০৪২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান ৫,৭০৮ ভোট পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে এস এম ফরহাদ ১০,৭৯৪ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। এজিএস পদে মুহা. মহিউদ্দীন খান ১১,৭৭২ ভোট পেয়েছেন। এই ব্যবধান নির্বাচনে ব্যক্তিত্ব এবং প্যানেলের গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয়।

ডাকসু নির্বাচনে সদস্য পদে ১৩টির মধ্যে ১১টিতে জয়লাভ করেছেন ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থীরা। বাকি একটি সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একটি পদে জয়ী হয়েছেন বামপন্থি প্রার্থী। উল্লেখযোগ্য যে, এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ভিন্ন মত ও আদর্শের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন নবনির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম।

নির্বাচনের পর বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ও ত্রুটিমুক্ত নির্বাচনের এই ফলাফল ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াই ও আদর্শের বিনিময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করবে। অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, “ছাত্রশিবির এক বছরের মধ্যেই প্রকাশ্যে আসলেও তাদের রাজনীতি দীর্ঘদিনের। এবারের নির্বাচনে দেখা গেছে তাদের সংগঠনের দৃঢ়তা এবং শিক্ষার্থীদের সমর্থন।” তিনি ছাত্রদলকে আত্মসমীক্ষণের পরামর্শ দেন, কারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয় হয়েছে।

নবনির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম নির্বাচনের ফলাফলের পর বলেন, “ছাত্ররা আমাদের ওপর নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়েছে, আমরা তাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাস বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ চালাব। সব মত ও আদর্শের সঙ্গে মিলে কাজ করব, যারা আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন, তারা আমাদের উপদেষ্টা।”

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ডাকসু নির্বাচন প্রমাণ করে যে, দীর্ঘদিন গোপনে থাকা ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক প্রভাব প্রকাশ্য রাজনীতিতে শক্তিশালীভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এই জয় ছাত্ররাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং আগামীর রাজনৈতিক লড়াই ও মতবিনিময়ের জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আগ্রহ ও অংশগ্রহণের দিক নির্দেশ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত