আ.লীগের বিচার দাবিতে আজ শাহবাগে এনসিপির বিক্ষোভ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ কাল

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা ও দেশের রাজপথে আবারও উত্তাপ ছড়াতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নিউইয়র্কে দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ কয়েকজন রাজনীতিবিদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনার জবাব দাবি জানিয়ে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে দলটি আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপির আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু রাজধানী নয়, বরং সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের ২০ দিনে এসেছে ১৯০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্কে সংগঠিত হামলা নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এর সঙ্গে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র জড়িত। হামলার শিকার হয়েছেন শুধু আখতার হোসেনই নন, আরও কয়েকজন বাংলাদেশি রাজনীতিকও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দলটির অভিযোগ, এই হামলা মূলত আওয়ামী লীগের প্ররোচনা ও মদদেই সংঘটিত হয়েছে। আর এজন্যই তারা “আওয়ামী লীগের বিচার” এর দাবি জানাচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল তিনটার দিকে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে তার সফরসঙ্গী হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় উপদেষ্টা, বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির নেতারা একসঙ্গে নিউইয়র্কের জনসাধারণের সামনে আসেন। সেই সময় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান ঘিরে আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা প্রবাসী আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ একটি অংশ, যারা ড. ইউনূস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালায়। এতে উপস্থিত কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হামলার ভিডিওচিত্র দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে। এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার এ ধরনের ঘটনাকে ঠেকাতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, বরং তারা নির্লিপ্ত থেকেছে। দলটির নেতারা বলেন, যে সরকার নিরপেক্ষতার নামে দায়িত্ব নিয়েছে, তাদের গাফিলতির কারণে এখনো বিদেশের মাটিতে দেশের রাজনীতিবিদরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আর তাই সরকারের ব্যর্থতার জবাব জনগণের কাছে দিতে হবে।

এনসিপির পক্ষ থেকে শাহবাগে ঘোষিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দলীয় নেতাকর্মীরা নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা সহকারে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়ে দিয়েছে, যদি সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে তারা বাধ্য হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন একটি সময় যখন অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে, তখন নিউইয়র্কে সংগঠিত হামলার ঘটনা অত্যন্ত বিব্রতকর। এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন জড়িত, তেমনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তারা মনে করছেন, এনসিপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজপথে নতুনভাবে শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে যা ঘটেছে, তা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এক পরিস্থিতি। তাদের দাবি, এ ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করার চেষ্টা কেবল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কৌশল। তবে এই বক্তব্যে এনসিপি এবং বিএনপির নেতারা আরও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করতে বিদেশের মাটিতেও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে, আর নিউইয়র্কের ঘটনাই তার সর্বশেষ উদাহরণ।

শাহবাগকে কেন্দ্র করে আজকের বিক্ষোভকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা জনদুর্ভোগ এড়াতে শাহবাগসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার বলেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালনা করার অধিকার সবার আছে, তবে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক মহল বলছে, এনসিপির এই কর্মসূচি কেবল একটি প্রতিবাদ নয়, বরং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণের সামনে একটি সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার কৌশল। দলটি এভাবে রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করে তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে চাইছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এই বিক্ষোভ মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল।

সাংবাদিক সমাজের মধ্যে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, নিউইয়র্কে হামলার মতো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ডেকে এনসিপি দেখাতে চাইছে যে তারা জনগণের পাশে আছে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এই ধরনের আন্দোলন দেশকে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

যে যাই বলুক, স্পষ্ট যে আজকের শাহবাগ বিক্ষোভ কেবল এনসিপির কর্মসূচি নয়; বরং এটি হয়ে উঠেছে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি। এখানে যেমন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে, তেমনি সরকারের অবস্থানও পরীক্ষার মুখে পড়বে। যদি বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় তবে তা সরকারের জন্য স্বস্তির বার্তা বহন করবে, কিন্তু যদি সহিংসতার সৃষ্টি হয় তবে তা কেবল রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শাহবাগ সবসময়ই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। এনসিপি এবার সেই প্রতীকী স্থানকেই বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে আওয়াজ তোলার জন্য। এখন সবার নজর থাকবে, এ বিক্ষোভ কতটা শক্তি সঞ্চার করতে পারে এবং এর ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত