ফখরুলের আহ্বান: জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিক আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিও

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
পি আর না গণভোটের নির্বাচন জনগণ কোনটা চায়

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে ভারতের কলকাতার বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের অধিকার প্রত্যাশা করছে। ফখরুল বলেন, “অনেকে আমাকে ভারতের এজেন্ট বা আওয়ামী লীগের দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। তবে শেখ হাসিনার অপকর্ম আমরা কেন করব? তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতে দেননি, তার ফলাফলের কারণে আমরা একই ভুল করার সুযোগ নেই। মানুষ এত রক্ত, এত প্রাণহানি দেখেছে, তাই আওয়ামী-বিরোধিতা রয়েছে।”

ফখরুলের মতে, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের জনগণ ভোটাধিকার ফেরত চাইছে। তিনি বলেছেন, “নির্বাচন উৎসবের মতো হবে। সংশয়ের কোনো জায়গা নেই। কোন অশান্তি হবে না।” বিএনপির মহাসচিব জোর দিয়েছেন, দেশের মানুষ ভোটের জন্য উন্মুখ এবং রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তিনি জামায়াত ও অন্যান্য শরিকদেরও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জামায়াত নির্বাচনে আসবে, তবে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধি)–টিআর পদ্ধতিতে নয়; জনগণ যেভাবে ভোট বোঝে, সেই প্রচলিত পদ্ধতিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে এনসিপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। ফখরুল জানান, “এনসিপি কখনো আমাদের কাছে আসন চায়নি। তাদের একমাত্র লক্ষ্য বিএনপিকে সরকার গঠনে বাধা দেওয়া।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, জামায়াত ৩০ আসন চেয়েছিল, যা বিএনপির পক্ষ থেকে অনুমোদন পায়নি।

নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেছেন, তিনি জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আস্থা রাখছেন। “সর্বোচ্চ সিরিয়াস তিনি। আন্তরিকভাবে চান ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হোক। আমি তার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর নিশ্চিত হয়েছি যে, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। নির্বাচন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।”

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। “একটা সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হোক। এর জন্য অনেকে আমাকে ভারতের এজেন্ট, আওয়ামীর দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। কিন্তু আমরা সেই ভুল করব না। ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসন মানুষ দেখেছে, আমরা একই পথ অবলম্বন করি না।”

ফখরুল সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, “ভারত মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সহযোগী ছিল এবং আঞ্চলিক প্রভাব অবশ্যই থাকবে। সমস্যা হলো, তারা শুধু আওয়ামী লীগের ওপর দৃষ্টি রাখছে। বিএনপি, জামায়াত বা অন্যান্য দলকে তারা নির্বাচনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে না। বিএনপি অসাম্প্রদায়িক, মধ্যপন্থী এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।”

তিনি আরও বলেন, জামায়াতকে আর সুযোগ দেয়া হবে না এবং বাংলাদেশের মধ্যে ভারত-বিরোধী অনুভূতি তীব্র। ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের সময় ভারতসহ সকল পক্ষের সঙ্গে অবাধ যোগাযোগ থাকবে। “কলকাতা যাব, বই কিনব, সিনেমা-থিয়েটার দেখব। মানুষে মানুষে যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ভারতীয়রাও স্বাগত। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।”

ফখরুলের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে, তিনি দেশের সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে দেশের মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ফখরুলের এই আহ্বান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ দিক নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তার দলের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করছে। ফখরুল স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এছাড়া ফখরুলের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে যে, তিনি দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রতি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন, দেশের জনগণ ভোটের অধিকার ফেরত চাইছে এবং রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে।

ফখরুল বলেন, “আমরা চাই, সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিক। জনগণ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে। নির্বাচন যেন উৎসবের মতো হয়। এতে দেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং জনগণের ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিএনপি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক নীতি বজায় রেখে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে নির্বাচনে অংশীদারিত্ব করবে। ফখরুলের মতে, জনগণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা আশা করছে এবং বিএনপি সেই দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।

ফখরুলের এই আহ্বান দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন দিক উন্মোচন করছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমরা একই ভুল করতে চাই না যা আওয়ামী লীগ ১৫ বছর করেছে। জনগণ এত রক্ত এবং প্রাণহানি দেখেছে। তাই বিএনপি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।”

এই সাক্ষাৎকারে ফখরুলের মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তিনি দেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষককে নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ হবে।

ফখরুলের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে চাইছে এবং সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটে তিনি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ সব দলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত