বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত প্রক্রিয়া স্পষ্ট করলেন রিজভী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮ বার
সুষ্ঠু নির্বাচনেই প্রকাশ পাবে বিএনপির জনপ্রিয়তা: রিজভী

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, দলের প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত এককভাবে পার্লামেন্টারি বোর্ড গ্রহণ করে এবং এটি চূড়ান্ত। কোনো সবুজ সংকেত বা বাহ্যিক অনুমোদনের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয় না। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দলের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি সম্পূর্ণ গঠনতান্ত্রিক এবং তা সরকারের নির্বাচনি তফশিল ঘোষণার পরই কার্যকর হবে।

রিজভী বলেন, সম্প্রতি কিছু পত্রিকা, অনলাইন মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিএনপির প্রার্থীদের বিষয়ে বিভিন্ন তালিকা, নাম-ধাম প্রকাশিত হয়েছে। এসব সংবাদে বিভ্রান্তি, অসন্তোষ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বিএনপি এ ধরনের গুজব বা মিথ্যা অপপ্রচারকে বরদাস্ত করবে না। “আমরা সবাইকে জানাই, যে কোনো নির্বাচনি এলাকায় কোনো প্রার্থীকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়নি। অনুমিত তালিকা বা অনুমানভিত্তিক সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি,” রিজভী বলেন।

বিএনপির সিনিয়র নেতা আরও জানান, দল ইতোমধ্যেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। “উপযুক্ত সময়েই পার্লামেন্টারি বোর্ড যাচাই-বাছাই করে যোগ্য, জনপ্রিয় এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে। এটি দলীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে, কোনো বাহ্যিক প্রভাব বা অনুমোদনের মাধ্যমে নয়। আমাদের প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়ায় পারফরম্যান্স, জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়,” তিনি বলেন।

রিজভী আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়েই নয়, বরং সারাদেশে নেতাকর্মীদের ঐক্য এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বারবার বলেন, জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। তাই নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য দৃঢ় রাখা, জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়ানো এবং দলের নীতি-প্রণীতিতে জনসম্পৃক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোন নেতাকর্মী জনগণকে বিরক্ত করবে এমন কাজে লিপ্ত হলে তা নির্বাচনী প্রভাবকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

রিজভী সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেতাকর্মীদের সারাদেশে ডোর টু ডোর গিয়ে জনগণের মুক্তির সনদ ৩১ দফা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এটি প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ার পূর্বপর্যায়ের অংশ নয়, বরং নির্বাচনের প্রস্তুতির কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে দলের সরাসরি সংযোগ এবং জনমত যাচাই করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “আমরা আশা করি, নেতাকর্মীরা দলের নির্দেশনা মেনে কাজ করবেন এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজবের প্রভাবে বিভ্রান্ত হবেন না। আমাদের লক্ষ্য হল, নির্বাচনকে জনগণমুখী, স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলকভাবে পরিচালনা করা।” তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়ার তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তা বাস্তবতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না। বিএনপি প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে কেবল পার্লামেন্টারি বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

রিজভীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া একটি সুসংগঠিত এবং নিয়মিত কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রার্থী নির্বাচন কোনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং দলীয় নীতিমালা ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়। তিনি বলেন, “প্রত্যাশীরা দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করবেন। সেই ভিত্তিতেই তাদের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”

তিনি বলেন, বিএনপি কোনওভাবেই অনুমানভিত্তিক বা মনগড়া তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে বিভ্রান্তির সুযোগ দেবে না। তিনি নেতা-কর্মীদের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়েছেন, “আপনাদের দায়িত্ব হলো দলের নির্দেশনা মেনে কাজ করা, জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়ানো এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবকে গুরুত্ব না দেওয়া। আমাদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে।”

রিজভী আরও উল্লেখ করেন, জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ক্লিন ইমেজের নেতাদের মূল্যায়ন করছে এবং দলের সার্বিক ভাবমূর্তি উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। দল চাইছে, নির্বাচনে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীই ভোটারদের কাছে পৌঁছান। তিনি বলেন, “নির্বাচন কেবল প্রার্থীদের নয়, পুরো দলের প্রস্তুতি, জনমত এবং কার্যক্রমের পরীক্ষাও। সেজন্য সঠিক প্রার্থী নির্বাচন ও নেতৃত্বের নির্দেশনা মেনে কাজ করা একান্ত জরুরি।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষ ভাগে রিজভী বলেন, বিএনপি দেশের সর্বত্র সক্রিয়ভাবে জনসংযোগ বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীরা দলীয় নীতি অনুযায়ী কাজ করবে, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ বা গুজবের প্রভাবে বিভ্রান্ত হবেন না। তিনি আশ্বাস দেন, পার্লামেন্টারি বোর্ডের প্রক্রিয়ায় প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীরা সঠিক ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ নেবেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। রিজভী বলেন, “আমরা আশা করি, পার্লামেন্টারি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জনগণমুখী হবে। জনমত যাচাই এবং নেতাকর্মীদের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণই শেষ রায় দেবেন।”

এভাবেই রিজভী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপিতে প্রার্থী মনোনয়ন সম্পূর্ণ গঠনতান্ত্রিক, সবুজ সংকেত ভিত্তিক নয় এবং কোনও অনুমিত তালিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। বিএনপির নেতারা দলের সিদ্ধান্ত অনুসারে সর্বদা জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলমান রাখবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত