শরীয়তপুরে জাহিদ হাসানের বাড়িতে পাল্টা ডিম নিক্ষেপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার
জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধি দল

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জেরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসানের বাড়িতে পাল্টা ডিম নিক্ষেপ করেছে স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মী ও ছাত্র-জনতা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠিত এই ঘটনায় এলাকায় চরম রাজনৈতিক বিভাজন ও ক্ষোভের আবহ সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রবাসী রাজনীতির প্রভাব দেশের স্থানীয় রাজনীতিতেও কতটা বিস্তৃত তার নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র গমনকারী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের সফরের সময়। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চার নম্বর টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে একদল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ডিম ছুড়ে মারে। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যা দেন, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী এটিকে প্রতিবাদ জানানোর প্রতীকী উপায় হিসেবে বর্ণনা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসানের নাম। যদিও তিনি নিজে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, বিরোধী পক্ষ বিষয়টিকে সরাসরি তার নেতৃত্বে সংঘটিত ঘটনা হিসেবে দাবি করছে। এই প্রেক্ষাপটে শরীয়তপুর জেলা এনসিপির সমন্বয়কারী রুহুল আমিনের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে যান জাহিদ হাসানের গ্রামের বাড়ি তেলিপাড়ায়, যেখানে তারা বাড়ির ফটক ও দেয়ালে ডিম ছুড়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডজনখানেক মানুষ ডিম হাতে নিয়ে হঠাৎ করেই জাহিদের বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও কোন সহিংসতা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি, তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ গ্রামে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রবাসী রাজনীতির প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি তার প্রকট প্রকাশ। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়া প্রমাণ করে যে, প্রবাসী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধু সীমান্তের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর ঢেউ পৌঁছে যায় প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত।

এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপ ছিল পরিকল্পিত অপমানের প্রচেষ্টা এবং এতে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রকাশ করেছে। তারা বলেন, “প্রবাসে যারা ভিন্নমত পোষণ করেন, তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ভয়-ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নিচ্ছে।” অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এনসিপির পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে এবং জাহিদ হাসানের বাড়িতে ডিম নিক্ষেপের মাধ্যমে তারা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে লিপ্ত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হঠাৎ করে তাদের শান্তিপূর্ণ এলাকায় রাজনীতির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ায় তারা উদ্বিগ্ন। অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েন বা প্রবাসী রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে দেশের গ্রামাঞ্চলে টেনে আনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে শরীয়তপুরে পাল্টা ডিম নিক্ষেপের ঘটনাকে কেউ কেউ প্রতীকী ন্যায়বিচার হিসেবে দেখছেন। তবে উভয় ঘটনাকেই অনেকেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে এলাকায় আরও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে কোনো ধরনের সহিংসতা সহ্য করা হবে না। একইসঙ্গে দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, প্রবাসী রাজনীতির এই ধরনের সংঘাত বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার সংস্কৃতি যদি শিকড় গেড়ে বসে, তবে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে।

নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বেলজিয়ামের রানিসহ শীর্ষ কূটনীতিক ও নেতৃবৃন্দের বৈঠক

শরীয়তপুরে মঙ্গলবারের ঘটনাটি হয়তো খুব বড় কোনো সহিংসতায় রূপ নেয়নি, তবে এর প্রতীকী প্রভাব যথেষ্ট। আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপ থেকে শুরু করে জাহিদ হাসানের বাড়িতে পাল্টা ডিম নিক্ষেপ—উভয় ঘটনাই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপমানের রূপ নিতে পারে, তার একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বোপরি, ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে, রাজনীতিতে ভিন্নমতকে সম্মান না দিয়ে প্রতিপক্ষকে ছোট করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। ডিম নিক্ষেপের মতো ঘটনা হয়তো ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা তৈরি করে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত এই ধরনের ঘটনা এড়িয়ে গিয়ে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে হাঁটা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত