ক্ষমতায় গিয়ে আগের মতো অপকর্মের স্বপ্ন দেখছে বিএনপি: মন্তব্য জামায়াত নেতার

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫
  • ২৪ বার
ক্ষমতায় গিয়ে আগের মতো অপকর্মের স্বপ্ন দেখছে বিএনপি: মন্তব্য জামায়াত নেতার

প্রকাশ: ১লা জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ তাহেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে। মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি দাবি করেন, বিএনপি মনে করছে আগামী নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় ফিরে এসে আবারও পূর্বের মতো অপকর্মে জড়াবে। এই বক্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

জুলাই মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থেকে ডা. তাহের বলেন, “বিএনপি ধরে নিয়েছে এবার তারাই ক্ষমতায় যাবে এবং ক্ষমতায় গিয়েই আবার আগের অপকর্মগুলো করবে। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে, এই দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। যারা দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে না, জনগণ তাদের আর সুযোগ দেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “এ দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনে যাকে ইচ্ছা ভোট দেবে, তারাই নির্বাচিত হবেন। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক। কোনো সংস্কার ছাড়াই যদি নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হয়, তা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। জনগণ সেটা মেনে নেবে না।”

নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) সিস্টেমের বিষয়টি উঠে আসে, যেখানে ডা. তাহের জানান, “দুটি দল বাদে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই পিআর সিস্টেমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে একমত হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। দেশে গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে এই পদ্ধতি একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও একই ধারা বজায় রেখে বক্তব্য রাখেন। তারা ১৯৭৭ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ যেন অপূর্ণ না থাকে। তাদের রক্ত যেন আরও একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পথ দেখায়।” বক্তারা দাবি করেন, সেই অভ্যুত্থানের ঘটনার পেছনে যেসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠী দায়ী ছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

একইসঙ্গে নেতাকর্মীরা সরকারকে আহ্বান জানান, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং অতীতের বিভীষিকাময় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় যেন জুলাই শহীদ পরিবারের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হয়।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বক্তব্য একদিকে যেমন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, তেমনি নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে নাগরিক সমাজে নতুন করে ভাবনার ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। নির্বাচনী পদ্ধতি, জবাবদিহি এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ—এই তিনটি বিষয় যেন এবার নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে, এমনটিই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত