কানাডায় অবৈধ ভারতীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৬ বার

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, নিজস্ব সংবাদদাতা

ওটাওয়া: যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার কানাডায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। বিশেষভাবে অবৈধ ভারতীয় কর্মীদের লক্ষ্য করে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (CBSA) জানিয়েছে, আগস্ট মাস থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানটি সাম্প্রতিক কয়েক বছরের মধ্যে দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বিস্তৃত ও ব্যাপক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু বড় শহরগুলোর সীমাবদ্ধ স্থানে নয়, বরং নির্মাণাধীন ভবন, রেস্তোরাঁ, খামার এবং অন্যান্য কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত।

ক্যালগারি শহরের বিভিন্ন নির্মাণাধীন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই এলাকায় বেশ কয়েক ডজন ভারতীয় নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী ছিলেন যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ করছিলেন। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিযান চলাকালীন সময়ে আটক বা দেশ ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১৫ অক্টোবর ক্যালগারিতে অনুষ্ঠিত একটি অভিযানে চারজন অবৈধ কর্মীকে আটক করা হয়, যার মধ্যে তিনজনই ভারতীয় নাগরিক। আটকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

এছাড়া, সেপ্টেম্বরে টরন্টোর পিল অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে ৫০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা, যারা তাদের ছাত্র বা অস্থায়ী কর্মী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বৈধ পারমিট ছাড়া কর্মরত ছিলেন। এ ধরনের কর্মীদের নিয়োগকারী নিয়োগকর্তাদের জন্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, প্রত্যেকটি লঙ্ঘনের জন্য নিয়োগকর্তাদের ৫০,০০০ কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে এক হাজার অতিরিক্ত কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই অভিযানকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে কানাডায় কাজ করার জন্য সকলেই বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবে এবং যারা নিয়মবিরুদ্ধভাবে অবস্থান করছে, তাদের শনাক্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযান কেবল অবৈধ কর্মীদের আটককেই কেন্দ্র করে নয়, বরং এটি দেশের অভিবাসন নীতির শৃঙ্খলা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সম্মান বজায় রাখার প্রচেষ্টা। তারা মনে করেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের সনাক্তকরণে নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যাতে দেশের শ্রম বাজারে অনিয়ম এবং বৈধ শ্রমিকদের সুযোগ নষ্ট না হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডায় এই ধরনের অভিযান শুরু হওয়া উল্লেখযোগ্য, কারণ এতে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের বৈধ অবস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় শ্রমিকদের উপর এই অভিযান সম্প্রতি তীব্র মনোযোগ পেয়েছে। কানাডার বিভিন্ন শহরে যেমন ভ্যাংকুভার, টরন্টো এবং ক্যালগারিতে অভিযানের বিস্তৃতি দেখিয়ে দিয়েছে যে, সরকার অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর।

এই অভিযান শুধু শ্রমিকদের নয়, অবৈধ নিয়োগকর্তাদের উপরও প্রভাব ফেলবে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, যে কোনো নিয়োগকর্তা যদি অবৈধ কর্মীকে নিয়োগ করে, তারা আইনিভাবে শাস্তি ভোগ করতে হবে। এতে দেশের অভিবাসন নীতি যথাযথভাবে প্রয়োগ হবে এবং বৈধভাবে কর্মরত শ্রমিকদের সুযোগ নষ্ট হবে না। এছাড়া, সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় আটককৃত ব্যক্তিদের জন্য পুনর্বাসন ও বৈধ পদ্ধতিতে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কানাডার অভিবাসন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযান কানাডার শ্রম বাজারের স্বচ্ছতা এবং বৈধ কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তারা বলছেন, “যে কর্মীরা বৈধ ভিসা এবং পারমিট ছাড়া কাজ করছে, তাদের শনাক্ত করা এবং ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। এতে বৈধ শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা যাবে এবং অবৈধ কার্যক্রম প্রতিহত করা সম্ভব হবে।”

অভিবাসন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যালগারি, টরন্টো এবং ভ্যাংকুভার শহরের নির্মাণ, রেস্তোরাঁ, খামার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তারা আরো জানিয়েছে, পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে এই অভিযান আরও জোরদার হবে এবং অন্যান্য শহরেও বিস্তৃত করা হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত এবং কার্যকরীভাবে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করার জন্য প্রশাসন সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে, ভারতীয় দূতাবাসও এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা কানাডায় কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের আইনগত তথ্য ও সচেতনতা প্রদান করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, যারা বৈধভাবে কাজ করছে না বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা যেন নিজ উদ্যোগে আইনগত ব্যবস্থা নেন এবং বৈধ পথেই অবস্থান নিশ্চিত করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিযান কেবল আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শক্তি দেখাবে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে কানাডার শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিফলন। তারা বলেন, “কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই বৈধ অভিবাসীদের অধিকার ও শ্রম বাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই অভিযান সেই নীতির ধারাবাহিকতা।”

এছাড়া, কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে কোনোরূপ সহিংসতা হবে না, তবে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও নিয়মিতভাবে চালানো হবে এবং সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধ করার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

সর্বশেষ, কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিযান চলাকালীন সময়ে সকলের জন্য বৈধতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তাদের লক্ষ্য, অবৈধ কর্মী শনাক্তকরণের মাধ্যমে কানাডার শ্রম বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং বৈধ কর্মীদের সুযোগ নিশ্চিত করা। এছাড়া, আইন লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে আর কেউ বৈধতা না লঙ্ঘন করে।

এই বিস্তৃত অভিযানকে কানাডার অভিবাসন নীতি রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি কানাডার শ্রম বাজারে নিরাপত্তা, বৈধতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি দৃঢ় সংকেত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত