তারেক রহমানের লক্ষ্য ট্রিলিয়ন-ডলারের বাংলাদেশ-টার্গেট-২০৩৪ সাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০২ বার
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সেমিনার
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ঘোষণা দিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করাই তার দলের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারী ও তরুণ জনগোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণ, যা লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং দেশের উৎপাদনশীলতাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যখন কোনো তরুণী মা পর্যাপ্ত শিশু পরিচর্যার সুযোগ না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন অথবা কোনো ছাত্রী পড়াশোনা বন্ধ করে দেন, তখন বাংলাদেশ হারায় সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা ও অগ্রগতি। আমাদের অর্থনীতি তখনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যখন আমরা সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর মেধা ও শ্রমকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারি না।”

তারেক রহমান জানান, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে যেখানে কোনো নারীকে পরিবার ও ভবিষ্যতের মধ্যে বেছে নিতে হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার—আমরা এমন এক আধুনিক, গণমুখী বাংলাদেশ চাই, যেখানে প্রতিটি নারী নিজের সাফল্যের স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিয়ে সমাজের অগ্রগতিতে অবদান রাখবে।”

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য উদ্ধৃত করে বিএনপি নেতা বলেন, বর্তমানে পুরুষদের ৮০ শতাংশের বিপরীতে নারীদের মাত্র ৪৩ শতাংশ কর্মজীবী। এই বৈষম্যই প্রমাণ করে যে, দেশের অর্থনীতিতে বিশাল এক সম্ভাবনাময় শক্তি এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে না। তারেক রহমানের মতে, “যদি আমরা শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থাকে জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ করতে পারি, তবে এটি নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াবে, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের জিডিপি-তে কমপক্ষে এক শতাংশ যোগ করবে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি পরিকল্পনা করছে সারাদেশে শিশু পরিচর্যা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণের। এর অংশ হিসেবে সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, সরকারি দপ্তরগুলোতে ধাপে ধাপে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র চালু, বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এসব সুবিধা দেবে, তাদের কর ছাড় এবং সিএসআর ক্রেডিট প্রদানের কথাও ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মান অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভারদের সার্টিফিকেশন চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “এই একটি সংস্কারই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিপুল পরিবর্তন আনতে পারে। এটি শুধু কর্মসংস্থান বাড়াবে না, বরং মধ্যবিত্ত শ্রেণির আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে, যা আমাদের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হবে।”

তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা তাদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করতে পারি না। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (IFC) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে শিশু পরিচর্যার সুবিধা রয়েছে, সেখানে কর্মী ধরে রাখার হার বেশি, অনুপস্থিতি কম এবং এসব প্রতিষ্ঠান এক বছরের মধ্যেই তাদের খরচ পুষিয়ে নিতে পারে। এটি কোনো দয়া নয়, বরং একে অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা হিসেবেই দেখা উচিত।”

তারেক রহমান বলেন, “শিশু পরিচর্যা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর অপরিহার্য অংশ। যেমন সড়ক অবকাঠামো বাজারকে সংযুক্ত করে, তেমনি ডে-কেয়ার সেন্টার নারীদের কর্মজীবনের সঙ্গে সংযুক্ত করে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এই সংযোগকে শক্তিশালী করতেই হবে।”

বিএনপির এই নেতা জানান, দলটি “বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতি” গঠনে বিশ্বাস করে, যেখানে নারীর সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা থাকবে, এবং যেখানে কর্মক্ষেত্রে সমান মজুরি ও সুযোগের নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো পশ্চাৎমুখী ধারণা প্রত্যাখ্যান করি যা নারীর সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে। আমাদের অগ্রযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু হবে মানবসম্পদ, বিশেষ করে নারী ও তরুণদের পূর্ণ বিকাশ।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ কল্পনা করি যেখানে প্রতিটি কর্মজীবী মা নিজের সন্তানের যত্ন নিয়ে আবার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন। যেখানে প্রতিটি ছাত্রী বাধাহীনভাবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। এমন এক সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে যত্ন, সহযোগিতা ও সমান সুযোগই হবে জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি।”

বিবৃতির শেষাংশে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানান, “এসো আমরা সবাই মিলে এমন এক বাংলাদেশ গড়ি, যেখানে কোনো সম্ভাবনা অপচয় হবে না, কোনো নারী বঞ্চিত হবে না, এবং যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজের সামর্থ্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন গাঁথায় অংশ নিতে পারবে। সেটিই হবে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, ন্যায়নিষ্ঠ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ।”

এই ঘোষণার মাধ্যমে বিএনপি কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিতই দেয়নি, বরং একটি প্রজন্মভিত্তিক অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেছে, যেখানে মানবসম্পদই মূল বিনিয়োগ এবং নারী হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত