আগামীকালের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির দাবি জামায়াতে ইসলামী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৯ বার
hআগামীকালের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির দাবি জামায়াতে ইসলামী

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, সর্বোচ্চ আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যেই এই আদেশ জারি করতে হবে, অন্যথায় সরকার জনগণের আস্থা হারাবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় দলটি। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, হামিদুর রহমান আযাদ এবং দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করতে হলে আগামীকালের মধ্যেই তা করতে হবে। সরকার চাইলে আজ রাতের মধ্যেই এ পদক্ষেপ নিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে জনগণ সরকারের ওপর আস্থা হারাবে। এই সনদ রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে পথ দেখাবে।”

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “সময়ক্ষেপণ না করে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে জনগণের মনে সন্দেহ তৈরি হবে যে সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে।”

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির পরপরই গণভোট আয়োজনের দাবি জানায় জামায়াত। তাহের বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের দিন কিংবা তার আগে গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে। তবে জামায়াত মনে করে, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজন করতে হবে। কারণ, যদি একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট হয়, তাহলে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের প্রার্থীদের জেতাতে ব্যস্ত থাকবেন। ফলে গণভোটের মূল উদ্দেশ্য গুরুত্ব হারাবে।”

তিনি আরও বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। এটি জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি।”

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “গণভোট শেষে ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। নির্বাচন যেন কোনো অনিশ্চয়তা বা সংশয়ের মধ্যে না পড়ে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের জন্য ফেব্রুয়ারি সময়টাই সবচেয়ে উপযুক্ত।”

জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, জাতীয় ঐক্য আরও দৃঢ় হবে এবং নির্বাচনের আগে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় ভোটগ্রহণে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

দলটির নেতারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত অনুযায়ী ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এখন এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। সময়ক্ষেপণ বা বিলম্ব দেশের রাজনীতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে জামায়াতের নেতারা বলেন, “জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। জুলাই সনদ সেই পরিবর্তনের রূপরেখা। সরকারের উচিত তা বিলম্ব না করে কার্যকর করা, যাতে রাষ্ট্র পরিচালনা গণতান্ত্রিক ও জনগণনির্ভর কাঠামোয় রূপ নেয়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত