প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এহসানউল্লাহ। বুধবার সকাল থেকে তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি এবং পরদিন ডাকযোগে পাঠানো ছুটির আবেদনও কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি।
বিসিএস ২০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা পুলিশ অ্যাকাডেমির অ্যাডমিন অ্যান্ড লজিস্টিকস শাখার দায়িত্বে ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলেও নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ অ্যাকাডেমির পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড লজিস্টিক) সাইফুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল থেকে ডিআইজি এহসানউল্লাহ কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরদিন তিনি ডাকযোগে ছুটির আবেদন পাঠালেও সেটি অনুমোদিত হয়নি। তবে কেন এবং কী কারণে এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হঠাৎ করে পালিয়ে গেলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বুধবারই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত-সংক্রান্ত একটি বিশেষ দল ঢাকা থেকে সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে পৌঁছায়। বিষয়টি টের পেয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে দ্রুত পালিয়ে যান ডিআইজি এহসানউল্লাহ।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, “আমিও শুনেছি তিনি দু’দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে আমার জানা নেই। ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব তদন্ত সংস্থা আছে—তারা স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করছে।”
ডিআইজি এহসানউল্লাহর এই পালিয়ে যাওয়া ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্তে নতুন মোড় আসতে পারে এই ঘটনার পর।
অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, ডিআইজি এহসানউল্লাহর আচরণ এবং হঠাৎভাবে পালিয়ে যাওয়া প্রশাসনের জন্য উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাকে খুঁজে বের করতে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমি সহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য তদন্ত চলছে।
এই রহস্যজনক ঘটনায় পুলিশি শৃঙ্খলা, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পুরো বিষয়টি দেশব্যাপী সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সামাজিক এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
ডিআইজি এহসানউল্লাহর নিখোঁজ হওয়ার এই ঘটনা শুধুমাত্র পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।