পাক-আফগান সীমান্তে ফের সংঘর্ষ, পাঁচজন নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২২ বার
পাক-আফগান সীমান্তে ফের সংঘর্ষ, পাঁচজন নিহত

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় বৃহস্পতিবার আবারো গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। এই ঘটনা ঘটে এমন সময় যখন দুই দেশ তুরস্কে শান্তি চুক্তি কার্যকর করার প্রস্তুতিতে আলোচনা চালাচ্ছিল।

ঘটনাস্থল আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলদাক জেলা। ওই এলাকার এক হাসপাতালের কর্মকর্তা জানান, হামলার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। আহতদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর।

ঘটনার পর দুই দেশ একে অপরকে দায়ী করেছে। আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “ইস্তাম্বুলে চলমান তৃতীয় দফা শান্তি আলোচনার সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী স্পিন বোলদাক এলাকায় হামলা চালায়। আফগান বাহিনী বেসামরিক ক্ষতি এড়াতে কোনো পাল্টা জবাব দেয়নি।”

অপরদিকে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “আজকের ঘটনার জন্য আফগান পক্ষ দায়ী। আফগানরা প্রথমে গুলি চালায় এবং পাকিস্তানি বাহিনী সংযতভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।”

গত মাসে সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদল তুরস্কে বসে অস্ত্রবিরতি চুক্তি কার্যকর করার চেষ্টা করছে। ওই সংঘর্ষে উভয় দেশের সেনা সদস্যসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছিল এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিল।

সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা লেগে আছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান পাকিস্তান তালেবান ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের আশ্রয় দিচ্ছে। আফগান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং স্থানীয়রা ঘরবাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গোলাগুলির এই ঘটনা শান্তি আলোচনার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে পুনরাবৃত্ত সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনঃস্থাপনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বেসামরিক মানুষ, বাণিজ্যিক রুট এবং দৈনন্দিন জীবন সবই প্রভাবিত হচ্ছে।

চলমান আলোচনার সফলতা নিশ্চিত করার জন্য এখন কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ে সমন্বয় প্রয়োজন। উভয় দেশকে বেসামরিক ক্ষতি রোধ এবং সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কঠোর মনোনিবেশ করতে হবে।

সীমান্তে ফের সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মানবিক এবং নিরাপত্তা দিক থেকে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় জনগণ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং কূটনীতিকদের সঠিক সমন্বয় ছাড়া শান্তি প্রক্রিয়া কার্যকর করা কঠিন হবে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে দুই দেশের জন্য অবিলম্বে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত