তুরস্ক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে চেষ্টা অব্যাহত রাখবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে তুরস্ক সবরকম চেষ্টার ত্রুটি করবে না বলে মন্তব্য করেছেন। রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এ কথা বলেন। এরদোয়ান বলেন, তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং ইউক্রেনসহ সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টায় তুরস্ক অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও জানান, সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে ‘ব্ল্যাক সি গ্রিন করিডোর’ পুনরায় চালু করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এরদোয়ান মনে করেন, এই করিডোর পুনরায় চালু হলে, যুদ্ধ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।

‘ব্ল্যাক সি গ্রিন করিডোর’ চুক্তি রাশিয়া, ইউক্রেন, তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যে ইউক্রেনের বন্দরে শস্য এবং খাদ্যদ্রব্য নিরাপদে পরিবহনের জন্য স্বাক্ষরিত হয়। এই করিডোরের মাধ্যমে যুদ্ধের মধ্যে থাকা জনগণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তবে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে রাশিয়া চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করে।

এরদোয়ান বলেন, “যুদ্ধে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কীভাবে এই সংঘাত বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করব। আমি বিশ্বাস করি আমাদের ইউরোপীয় অংশীদার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে কথোপকথনের সুযোগ তৈরি হবে।” তিনি এও বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় করে ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আঙ্কারা প্রথমবার ২০২২ সালের মার্চ মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বৈঠক আয়োজন করে। পরবর্তীতে, তুরস্ক ইউক্রেনীয় বন্দর থেকে শস্য ও খাদ্য সামগ্রী রপ্তানি সহজতর করতে মধ্যস্থতা করে। এর ফলে যুদ্ধকালীন মানবিক সঙ্কট কিছুটা লাঘব হয়। তবে, রাশিয়ার চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এই প্রক্রিয়া স্থগিত হয় এবং পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে ওঠে।

এরদোয়ান সতর্ক করেছেন, যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় একক চেষ্টাই যথেষ্ট নয়; আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, তুরস্ক যেকোনো সময় নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত, যাতে উভয় পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তুরস্কের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি ইউরোপীয় নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে। এরদোয়ানের মধ্যস্থতা যুদ্ধবিরতি, মানবিক ত্রাণ ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে খাদ্য সংকট ও শক্তিশালী রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্যোগের মাধ্যমে ‘ব্ল্যাক সি গ্রিন করিডোর’ পুনরায় চালু করা হলে, হাজার হাজার টন খাদ্য নিরাপদে বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এরদোয়ান বলছেন, “আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। যুদ্ধের যন্ত্রণা মানুষের ওপর থেকে তুলে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।” তার মন্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তুরস্কের মধ্যস্থতা ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান ও বিশ্বজনীন শান্তি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত