দক্ষিণ কোরিয়া–তুরস্ক বন্ধন শক্তিশালী করছে কৌশলগত অংশীদারিত্ব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
দক্ষিণ কোরিয়া–তুরস্ক বন্ধন শক্তিশালী করছে কৌশলগত অংশীদারিত্ব

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্ক “রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ ভ্রাতৃপ্রতিম জাতি, যারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই ঐতিহাসিক বন্ধন কেবল অতীতের স্মৃতি নয়, বরং দুই দেশের ভবিষ্যৎ কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লি জানান, “তুর্কি কোরিয়ার কৌশলগত অংশীদার এবং ইউরেশিয়া অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু।” তিনি আরও বলেন, সিউল আঙ্কারার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব সংহত ও উন্নত করার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

লি’র এ মন্তব্য এসেছে তাঁর তুরস্কে সরকারি সফরকে সামনে রেখে। এই সফর ২৪ নভেম্বর থেকে দুই দিনের জন্য শুরু হবে, যেখানে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও পারমাণবিক শক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা।

তিনি বলেন, “তুরস্ক ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরেশিয়া এবং আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থান করছে এবং এই অবস্থান এটিকে একটি অসাধারণ কৌশলগত ভূমিকা প্রদান করেছে। কোরিয়ার জন্য তুরস্ক শুধু উৎপাদন কেন্দ্র নয়, বরং উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় কৌশলগত অংশীদার।” লি মনে করেন, দুই দেশের সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক, যা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করে।

প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আরও উল্লেখ করেন, প্রতিরক্ষা শিল্পে আঙ্কারা–সিউল সহযোগিতা বহু বছর ধরে শক্তিশালী। যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সমন্বয় এবং কর্মীদের দক্ষতা বিনিময় এই সহযোগিতার মূল ভিত্তি। “আমাদের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের একটি দৃষ্টান্ত হলো আলতাই প্রধান যুদ্ধট্যাংক উৎপাদন কর্মসূচি,” তিনি বলেন। লি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে এই সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে, বিশেষত মানবহীন ব্যবস্থাকে প্রচলিত প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে একীভূত করে পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি উন্নয়নে।

উল্লেখযোগ্য যে, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তুরস্ক উভয়ই নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়াসে রয়েছে। লি বলেন, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয় কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে। তুরস্কের মানবহীন আকাশযান ব্যবস্থায় নেতৃত্ব এবং দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নত ট্যাংক, আর্টিলারি ও নৌযান প্রযুক্তি দুই দেশের জন্য কৌশলগত সুবিধা সৃষ্টি করছে।

এছাড়া লি পারমাণবিক খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তুরস্কের সিনোপ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। “দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বমানের পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং নিরাপদ পরিচালনার দক্ষতা তুরস্কের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে,” তিনি উল্লেখ করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় লি জে মিয়ং বলেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব শুধু প্রতিরক্ষা বা অর্থনীতি সীমিত নয়। এটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে সমৃদ্ধ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাস এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই এখন কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি, যা দুই দেশের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গভীরভাবে একে অপরের সঙ্গে আবদ্ধ। দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার ক্ষেত্রে অতীতের সম্মিলিত অবদান ভবিষ্যতের অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে।

উল্লেখযোগ্য যে, লি জে মিয়ংয়ের এই সফর কেবল দ্বিপক্ষীয় আলোচনা নয়, বরং ইউরেশিয়া অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও গুরুত্ব বহন করছে। এই সফরের মাধ্যমে কোরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে কৌশলগত, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন যুগের অংশীদারিত্ব সূচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত