পাকিস্তানের বোমাবর্ষণে আফগানিস্তানে নিহত ৯ শিশু ও নারী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার
আফগানিস্তানে পাকিস্তানী হামলায় নিহত ৯ শিশু ও নারী

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্ত আবারও রক্তাক্ত হলো মধ্যরাতের নিস্তব্ধতায়। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশের গুরবুজ জেলায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের অন্তত নয়টি শিশু এবং একজন নারী নিহত হয়েছেন। গভীর রাতের এই আঘাতে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় তাদের বসতবাড়ি। তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বেসামরিক মানুষের ওপর এমন হামলা শুধু অমানবিকই নয়, বরং সীমান্ত নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে।

মুজাহিদ জানান, স্থানীয় বাসিন্দা কাজী মীরের ছেলে ওয়ালিয়াত খানের বাড়িতে ভয়াবহ এই বোমা নিক্ষেপ করা হয়। হামলা এমন সময়ে ঘটে, যখন একটি পরিবার দিনের ক্লান্তি মুছে স্বাভাবিক ঘুমে ডুবে থাকতে চেয়েছিল। মুহূর্তের ব্যবধানে পাঁচ ছেলে এবং চার মেয়েসহ নয়টি শিশুর জীবন নিভে যায়। নিহত নারীর পরিচয় প্রকাশ না করা হলেও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনিও পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং ধ্বংসস্তূপেই প্রাণ হারান। পুরো বাড়িটি বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ খুঁজতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

খোস্তের বেদনার এ ছবি সীমান্তের অন্য অঞ্চলেও প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জানান, একই সময়ে পাকিস্তানি বাহিনীর আরও দুটি বিমান হামলা হয়—একটি উত্তর-পূর্ব কুনার প্রদেশে এবং অপরটি পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিকা প্রদেশে। কুনার ও পাকতিকা—দুই জায়গায়ই বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এবং অন্তত চারজন নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব হামলার নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া, সীমান্ত লঙ্ঘন ও পারস্পরিক হামলার অভিযোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যে শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা আবারও প্রমাণ হলো খোস্তের এই মর্মান্তিক ঘটনায়। শিশুরা যে সবচেয়ে অসহায়, দুর্বল ও নিরাপদ থাকার কথা, সেই শিশুদেরই প্রাণহানিতে আন্তর্জাতিক মহলে এখনও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আফগানিস্তানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা ও সশস্ত্র অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। নতুন এই হামলা তাই আরও একটি মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরল। সীমান্ত এলাকায় যেসব পরিবার বহু বছর ধরে যুদ্ধ, অস্থিরতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে, তাদের মধ্যে নতুন করে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। গুরবুজের সেই বাড়িটি যে শুধু ধ্বংস হয়েছে তা নয়, সেখানে থাকা ভবিষ্যৎও ধ্বংস হয়েছে—কারণ একটি পরিবারের পরপর নয়টি শিশুর মৃত্যু যে শোকের গভীরতা তৈরি করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

তালেবান প্রশাসন দাবি করছে, পাকিস্তানের এই আঘাত আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় পর্যাপ্ত সতর্কতা বা নজরদারি না থাকায় বেসামরিক প্রাণহানি বেড়ে যাচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলছে, সীমান্তে বেসামরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা দাবি করছে, ভবিষ্যতে এমন হত্যাকাণ্ড বন্ধে কঠোর কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এদিকে নিহত শিশু ও নারীর পরিবার এখন সম্পূর্ণভাবে নিঃস্ব। তাদের জীবনের মূলভরসা ছিল সেই ছোট্ট বাড়িটিই, যা এখন আর নেই। কেবল শোক আর অনিশ্চয়তা তাদের ঘিরে ধরেছে। প্রশ্ন উঠছে—তারা কি কোনো প্রতিকার পাবে? পাকিস্তান কি এ ঘটনার দায় স্বীকার করবে? আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি তাদের পাশে দাঁড়াবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

তবে এটুকু নিশ্চিত, সীমান্তের উত্তেজনা যে নতুন করেই ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে, খোস্তের এই মর্মান্তিক রাতের ঘটনায় তা স্পষ্ট হয়েছে। যুদ্ধের রাজনীতির বাইরে গিয়ে বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টি এখন আরও বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তের উল্টো পাশে বসে থাকা পরিবারগুলো এখন কেবল শান্তির প্রত্যাশাতেই দিন গুনছে, যেন আর কোনো মধ্যরাতে এমন নিষ্ঠুর হামলা তাদের ঘরবাড়ি গ্রাস না করে ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com