প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও টিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। নেতানিয়াহুর মতে, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের অবদান ‘ব্যতিক্রমধর্মী ও নিরন্তর।’
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিগুলোর একটি, যা জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানো, যুদ্ধবিরতি, সেনাবাহিনী হ্রাস বা বিলুপ্তি, এবং শান্তি সম্মেলনের প্রসারে অনন্য অবদানের জন্য প্রদান করা হয়। আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা অনুসারে ১৯০১ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান হয়ে আসছে এবং নরওয়ের নোবেল কমিটি বিজয়ী নির্বাচন করে থাকে।
নেতানিয়াহু যে চিঠি নোবেল কমিটিকে পাঠিয়েছেন, তাতে তিনি ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন। এর আগে ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাকে ও একইসঙ্গে থিওডোর রুজভেল্ট, উড্রো উইলসন ও জিমি কার্টারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্টরা এই সম্মাননা পেয়েছেন। যদি ট্রাম্প এবার নির্বাচিত হন, তবে তিনিও হবেন মার্কিন ইতিহাসে পঞ্চম রাষ্ট্রপতি, যিনি এই পুরস্কার পাবেন।
এমন মনোনয়ন অবশ্য সবার মধ্যে সমর্থন পায়নি। সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডট সরাসরি মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগের পেছনে ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে খুশি করার অভিপ্রায় থাকতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানও এর আগে ট্রাম্পের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিতে চেয়েছিল, বিশেষত ভারত-পাকিস্তান বিরোধে তার মধ্যস্থতার কারণে।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং নিয়ন্ত্রিত। বিশ্বের যে কোনো জীবিত ব্যক্তি বা সক্রিয় প্রতিষ্ঠান এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য হলেও নিজেকে মনোনয়ন দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে বিভিন্ন দেশের সরকার, সংসদের সদস্য, রাষ্ট্রপ্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, আইন বা দর্শনের অধ্যাপক এবং পূর্ববর্তী বিজয়ীরা মনোনয়ন দিতে পারেন।
এমনকি মনোনীত ব্যক্তির তালিকাও প্রকাশিত হয় না; কমিটি এ তালিকা ৫০ বছর গোপন রাখে। তবে মনোনয়নদাতা চাইলে তা জনসমক্ষে আনতে পারেন। সাধারণত জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকে। ফলে নেতানিয়াহুর প্রেরিত মনোনয়ন এই বছর নয়, সম্ভবত আগামী বছরের তালিকায় বিবেচিত হতে পারে।
প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসে। পাঁচ সদস্যের কমিটি, যা নরওয়ের সংসদ কর্তৃক নিয়োজিত, প্রাথমিক তালিকা সংক্ষিপ্ত করে এবং বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টাদের পরামর্শ নিয়ে চূড়ান্ত মনোনীতদের নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে। ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণের চেষ্টা হলেও, প্রয়োজন হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
২০২৫ সালের জন্য ইতিমধ্যেই ৩৩৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২৪৪ জন ব্যক্তি ও ৯৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২৮৬। বিজয়ীর নাম সাধারণত অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে ঘোষণা করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে পদক, সনদ ও নগদ অর্থের (১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা) সঙ্গে সম্মাননা দেওয়া হয় ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে।
ট্রাম্পের এই মনোনয়ন তার সমালোচক ও সমর্থক উভয়ের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একপক্ষ মনে করছে, তার প্রশাসন বিভিন্ন যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সক্রিয় থাকলেও সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক শান্তি প্রক্রিয়ায় তার অবস্থান কতটা স্থায়ী তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অন্যপক্ষ আবার বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সমঝোতা গঠনে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ সত্যিই বড় অর্জন।
সবমিলিয়ে নেতানিয়াহুর এ মনোনয়ন শুধু ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনীতিই নয়, সমকালীন বিশ্বরাজনীতির নতুন সমীকরণ এবং বিতর্ককেও উসকে দিয়েছে—যা আগামী অক্টোবরের ঘোষণার আগে পর্যন্ত কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা আর বিতর্কের রসদ জোগাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। নোবেল এমন একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার, যা কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে জাতিসমূহের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হয়। পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও টিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোবেল কমিটিকে পাঠানো চিঠিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, ট্রাম্প ‘বিশ্বজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের অবদান ব্যতিক্রমধর্মী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ট্রাম্প বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর আগেও তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। নোবেল এমন একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার, যা কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে জাতিসমূহের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হয়। পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও টিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোবেল কমিটিকে পাঠানো চিঠিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, ট্রাম্প ‘বিশ্বজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের অবদান ব্যতিক্রমধর্মী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ট্রাম্প বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর আগেও তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
পাকিস্তানও জুন মাসে বলেছিল, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা করায় তারা ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব দেবে।
তবে নেতানিয়াহুর এ মনোনয়ন কিছু মহলে সংশয় সৃষ্টি করেছে। সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডট এক্স পোস্টে মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহু আসলে ট্রাম্পকে খুশি করতে চাচ্ছেন।
যদি ট্রাম্প এই পুরস্কার জেতেন, তাহলে তিনি হবেন নোবেল পাওয়া পঞ্চম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে থিওডোর রুজভেল্ট, উড্রো উইলসন, জিমি কার্টার এবং বারাক ওবামা এই পুরস্কার পেয়েছেন।
কীভাবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়, তা এক নজরে
যোগ্যতা
নোবেলের আবিষ্কারক, সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা অনুযায়ী, এই পুরস্কার তাকে দেওয়া হবে, যিনি জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানো, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত বা হ্রাস, এবং শান্তি সম্মেলনের প্রচলন ও প্রসারে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন।
জীবিত যেকোনো ব্যক্তি বা সক্রিয় প্রতিষ্ঠান এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য।নোবেল ওয়েবসাইটে নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেছেন, বাস্তবে যে কেউই শান্তি পুরস্কারের প্রাপক হতে পারেন। এই পুরস্কারের ইতিহাস স্পষ্টভাবে দেখায় যে, সমাজের সব স্তরের মানুষ, পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকেই বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন।
নোবেল বিজয়ীদের নাম প্রতিবছর অক্টোবর মাসে ঘোষণা করা হয়, তবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় জানুয়ারি মাসেই। অর্থাৎ, নেতানিয়াহুর মনোনয়ন এই বছরের জন্য বিবেচিত হবে না।
মনোনয়ন
হাজার হাজার ব্যক্তি মনোনয়ন দিতে পারেন—যেমন, বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংসদের সদস্যরা, বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানরা, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, আইন ও দর্শনের অধ্যাপকরা এবং পূর্বের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীরা। তবে নিজেকে মনোনয়ন দেওয়া যায় না।
মনোনীতদের তালিকা ৫০ বছর গোপন রাখা হয়, যদিও যিনি মনোনয়ন দিয়েছেন, তিনি চাইলে সেটি প্রকাশ করতে পারেন।
কীভাবে বিজয়ী নির্বাচন হয়?
নরওয়ের সংসদ কর্তৃক নিয়োজিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি পুরস্কার বিজয়ী নির্ধারণ করে। সদস্যরা সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদ হলেও, সবসময় তা নয়। বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন পিইএন ইন্টারন্যাশনার (PEN International) –এর নরওয়েজিয়ান শাখার প্রধান।
সদস্যদের মনোনয়ন নরওয়ের রাজনৈতিক দলগুলো দেয় এবং এতে দেশটির সংসদের রাজনৈতিক ভারসাম্যের প্রতিফলন ঘটে।
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে কমিটির প্রথম বৈঠক হয়, যেখানে সদস্যরাও নিজেরা নতুন মনোনয়ন দিতে পারেন।
গত বছর (২০২৪ সালে) মোট ২৮৬ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। আর ২০২৫ সালের জন্য ৩৩৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছে—যার মধ্যে ২৪৪ জন ব্যক্তি এবং ৯৪টি প্রতিষ্ঠান।
কমিটি প্রথমে তালিকা ছোট করে করে, এরপর স্থায়ী উপদেষ্টারা ও বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি মনোনীত প্রার্থীর পর্যালোচনা করেন।
কমিটি ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটেও সিদ্ধান্ত হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাধারণত পুরস্কার ঘোষণার কয়েক দিন আগে নেওয়া হয়।
সুবিধা ও সম্মাননা
একটি পদক, একটি সনদ, ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১.১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), এবং যদি ইতোমধ্যেই বিখ্যাত না হন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি।
এই বছরের শান্তি পুরস্কার ঘোষিত হবে ১০ অক্টোবর, নরওয়ের নোবেল ইনস্টিটিউটে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে, অসলো সিটি হলে।