দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের মুলতবি অধিবেশন শুরু,প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে জটিল সমীকরণ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৮ বার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার আবহে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের মুলতবি অধিবেশন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন সম্ভাবনা ও পুরনো জটিলতার মিশেলে এক ভিন্নমাত্রার ইঙ্গিত বয়ে এনেছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়, যাতে অংশ নেন দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা ও গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারকরা।

কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই এক ধরনের চাপা উত্তেজনা ও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি সহ প্রায় ত্রিশটিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোট এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পুনর্বহালের দাবি ও তা ঘিরে সরকারি অবস্থানের কঠোরতা, একইসাথে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক প্রভাব।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের তত্ত্বাবধানে অধিবেশনের সঞ্চালনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে আরও উপস্থিত আছেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমদাদুল হক, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ ড. বদিউল আলম মজুমদার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং অভিজ্ঞ প্রশাসক মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।

অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মতবিনিময়ে উঠে আসছে একদিকে প্রধান বিচারপতির নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের জোরালো দাবী, অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতের অনড় অবস্থান। সরকারি দলগুলো এখনও তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ বলে জানা গেছে। ফলে এই ইস্যুতে সমঝোতার সম্ভাবনা কতটা দৃঢ়, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা, নানা ধরনের হুমকি-ধামকি ও sporadic সহিংসতার পর এক টেবিলে এতগুলো দলকে বসানোই ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে তাদের মতে, প্রকৃত সমাধান নির্ভর করবে আলোচনার ধরন, গোপন সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ওপর।

অধিবেশনে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সম্ভাব্যতা নিয়েও বিতর্কিত আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কোনো কোনো পক্ষ বলছে, রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান না হলে সাময়িকভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে, যদিও এর সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও জনগণের প্রতিক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র বলছে, দিনের আলোচনার পর প্রাথমিক কিছু সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ আজই সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হতে পারে। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাই অধীর অপেক্ষায় আছেন—সংলাপ থেকে বেরিয়ে আসা সমাধানমূলক প্রস্তাবনা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চিত্র কোন দিকে নিয়ে যায়, তা দেখতে।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকে মনে করছেন, সহিংসতা আর অচলাবস্থার দোলাচল থেকে বেরিয়ে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হলে এই সংলাপই হতে পারে একটি কার্যকর হাতিয়ার, যদি তা কথার সীমারেখা পেরিয়ে বাস্তব রূপরেখা নির্মাণে সক্ষম হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত