প্রকাশ : ১০ জুলাই | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইরান ও ইসরাইলের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে। সর্বশেষ বিবৃতিতে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরাইল যদি নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসনের চেষ্টা চালায়, তবে তার জবাব হবে কঠোর এবং প্রস্তুত। প্রেস টিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বক্তব্যের বিস্তারিত উঠে এসেছে।
গত বুধবার ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ এবং আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সুরেন পাপিকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, ইহুদিবাদী সরকারের সাম্প্রতিক আগ্রাসন ইরানের জন্য নতুন কিছু নয়। তবে এবার যদি হামলা হয়, তবে জবাব হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ও শক্তিশালী। নাসিরজাদেহ বলেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা আক্রমণই প্রমাণ করেছে যে শত্রু পক্ষ যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করতে বাধ্য হয়েছে।
গত জুনে ইরানের ভূখণ্ডে ইসরাইলের সশস্ত্র আক্রমণের সময় ভেনিজুয়েলা ও আর্মেনিয়ার জনগণ ও সরকারের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হয়েছে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার টেবিলে বসে ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি—যা আবারও প্রমাণ করেছে, পশ্চিমা শক্তিরা মুখে যা বলে বাস্তবে তা করে না।
টেলিফোন সংলাপে ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী লোপেজ বলেন, ইসরাইল এবং তার মিত্ররা চাইলেও ইরানের প্রতিরোধ শক্তিকে ভেঙে দিতে পারবে না। তিনি আশ্বাস দেন, লাতিন আমেরিকার জনগণ বিশ্বজুড়ে দাম্ভিক শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের পাশে থাকবে। একইসঙ্গে আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাপিকিয়ানও ইরানের বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক নেতাদের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান।
১৩ জুন থেকে ইসরাইল ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাতে থাকে। এতে নারী ও শিশুসহ শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর জবাবে ইরান ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের নেতৃত্বে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ নামের এক বিস্তৃত সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক, গোয়েন্দা, শিল্প, জ্বালানি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসরে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভেনিজুয়েলা ও আর্মেনিয়ার মতো দেশগুলোর প্রকাশ্য সমর্থন ইরানকে কূটনৈতিকভাবে শক্তি জোগাচ্ছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ও পশ্চিমা মিত্ররা এই সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও ইসরাইলের একের পর এক হামলা নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি তাদের ঘোষিত প্রতিশোধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে সংঘাতের ভয়াবহ আবর্তে পড়তে পারে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও কৌশলগত ভারসাম্যও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
সবমিলিয়ে, ইরান-ইসরাইল বৈরিতা এখন আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির সর্বত্রই।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন