প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের গ্যাস মজুদের সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য বিদেশে সরবরাহ করে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পেট্রোবাংলার পরিচালক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুদকের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দুদক জানিয়েছে, সংস্থাটির বিশেষ শাখা রফিকুল ইসলামের এই অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান পরিচালনা করবে।
দুদকের বক্তব্য অনুযায়ী, পেট্রোবাংলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রফিকুল ইসলাম দেশের গ্যাস মজুদের সংবেদনশীল তথ্য বিদেশিদের কাছে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এই ঘটনায় শতকোটি টাকার সম্পদের হস্তান্তর এবং অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগও রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান, গ্রাহকের বিল মওকুফ, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম, এবং ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে স্বার্থপর ও দুর্নীতিপূর্ণ কর্মকাণ্ড।
দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের দ্রুত নিয়োগ করা হবে এবং রফিকুল ইসলামের কাছে প্রাসঙ্গিক তথ্য–উপাত্ত চেয়ে তলব করা হবে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় তার ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বিবরণী, গ্যাস সংযোগ এবং বিদেশী সংস্থার সঙ্গে লেনদেন সম্পর্কিত নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া দুদক তার প্রাপ্ত অর্থ ও সম্পদের উৎস যাচাই করবে এবং যদি প্রমাণিত হয় যে সম্পদ অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পেট্রোবাংলার মতো সরকারি সংস্থা দেশের গ্যাস মজুদের সংবেদনশীল তথ্য নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা না হলে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও শক্তি খাতের স্বার্থ বিপন্ন হতে পারে। বিদেশি সংস্থাকে গোপন তথ্য বিক্রির মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেন করা হলে এটি শুধু দুর্নীতি নয়, রাষ্ট্রীয় স্বার্থহানি হিসেবেও গণ্য হবে।
রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের বিষয়টি জনগণ এবং গ্যাস খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরণের অবৈধ কর্মকাণ্ড যদি দ্রুত খতিয়ে দেখা না হয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে দেশের গ্যাস খাতের স্বচ্ছতা ও সরকারি তদারকির ওপর আস্থা কমে যাবে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও পেশাদারভাবে পরিচালিত হবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তারা দেশের গ্যাস মজুদের লেনদেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং কর্মকর্তা–কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের তথ্য সংগ্রহ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনা দেশের শক্তি খাতের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পেট্রোবাংলার মতো সংস্থা যেখানে দেশের গ্যাস মজুদের পরিকল্পনা ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে এই ধরনের দুর্নীতিপূর্ণ কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে খাতের স্থিতিশীলতা ও জনগণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুদকের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যে সতর্কতার সঙ্কেতও জাগাবে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধান দেশের প্রভাবশালী খাতগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। জনগণ আশা করছে, দুদক অনুসন্ধান শেষ করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি সংস্থার দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য অন্যান্য সরকারি সংস্থা ও খাত সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকার আহ্বান জানানো হবে। এছাড়া রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত প্রমাণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মামলা দায়ের করা হবে।
এই অনুসন্ধান দেশের শক্তি খাতের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দুদক আশ্বাস দিয়েছে, দেশের গ্যাস খাতের নিরাপত্তা, জনগণের স্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করবে।