ইউক্রেন ছাড়লো ন্যাটো যোগের আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তা আশ্বাস পেল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬২ বার
ইউক্রেন ত্যাগ করলো ন্যাটো যোগ, নিরাপত্তা আশ্বাস পেল
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি।

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ সময়ের উত্তেজনা ও দর-কষাকষির পর অবশেষে ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করেছে। তবে কিয়েভ এখনও বড় ধরনের হামলার ক্ষেত্রে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা সহায়তার নিশ্চয়তা পেয়েছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক শেষে এই তথ্য জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এ বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে।

প্রায় চার বছর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পেছনের মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়েছিল কিয়েভের ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা। রাশিয়া শুরু থেকেই কঠোরভাবে জানিয়েছিল, ন্যাটোতে যোগ দেওয়া হলে তাদের সীমান্তে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি বেড়ে যাবে এবং দেশটির নিরাপত্তা ও প্রভাবহীন হয়ে পড়বে। সেই হুমকির প্রেক্ষিতে কিয়েভ এবার মস্কোর শর্ত মেনে নিল।

রোববার বার্লিনে মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন, ইউক্রেন ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য না হলেও বড় কোনো সামরিক আক্রমণের ক্ষেত্রে আর্টিকেল ফাইভের মতো নিরাপত্তা সহায়তা পাবে। এটি মানে, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ইউক্রেনকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে সমর্থন দেবে যখন দেশের সুরক্ষা বড় ধরনের হুমকির মুখে থাকবে।

সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। ন্যাটো যোগদানের স্বপ্ন স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের এই পথকৌশল কিয়েভের কূটনীতিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘোষণার প্রভাব সাধারণ ইউক্রেনীয়দের মাঝে একরকম মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সন্দিহান যে শুধুমাত্র পশ্চিমা আশ্বাসে তাঁদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কি না।

দেশটির জনগণ এখন দ্রুত যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। গত চার বছরের সংঘাত ও তীব্র ধ্বংসযজ্ঞের পর জনগণের কাছে সবচেয়ে বড় চাওয়া হলো নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যতের জন্য নিশ্চিত নিরাপদ পথ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ন্যাটোতে যোগ না দেওয়া হলেও, এই নিরাপত্তা আশ্বাস কিয়েভকে রাশিয়ার হুমকির মোকাবেলায় কিছুটা সুবিধা দেবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক শক্তি বজায় রাখবে।

ইউক্রেনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো কতটা কার্যকরভাবে সহায়তা দিতে পারবে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হবে কি না—এই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একই সঙ্গে, রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া এবং সীমান্ত নিরাপত্তার স্থিতি নিয়েও বিশেষ মনোযোগী হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

বিশ্ব রাজনীতিতে এই পদক্ষেপকে কূটনীতিকরা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য না হলেও নিরাপত্তা সহায়তার আশ্বাস কিয়েভকে কূটনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান দিতে পারে। এছাড়া, যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত