প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মহান বিজয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে দেশের জন্য আত্মদানকারী বীর শহীদদের। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মানুষের উপস্থিতিতে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হলেও ছিল গভীর আবেগ আর সম্মানের আবহ।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর সন্তানদের প্রতি সম্মান জানান। ব্যানার, ফেস্টুন আর ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড়ে স্মৃতিসৌধের বেদী ফুলে ফুলে ভরে ওঠে।
দিনের প্রথম প্রহরে সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেন। এরপর সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে সংরক্ষিত দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে প্রধান বিচারপতি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ সারাদেশেই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বিজয়ের এই দিনে জাতি আবারও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে লাল-সবুজের পতাকা এনে দেওয়া বীর শহীদদের।