গাজা ফেরত আরও এক ইসরাইলি সেনার আত্মহত্যা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬১ বার
গাজা ফেরত আরও এক ইসরাইলি সেনার আত্মহত্যা

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাদের মধ্যে মানসিক চাপে ভোগার কারণে আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ থেকে ফিরে এপর্যন্ত মোট ৬১ জন ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যা করেছেন। সর্বশেষ ঘটনার শিকার হয়েছেন আরও এক সেনা, যিনি মঙ্গলবার নিজেকে গুলি করে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে মারা যান।

টিআরটি ওয়ার্ল্ড ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিহত সেনাটি বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবায় নিযুক্ত ছিলেন এবং উত্তর ইসরাইলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিজের অস্ত্র ব্যবহার করেন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশি তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীও একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আহত সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। নেসেট রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট ২৭৯ জন ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এসব ঘটনার ফলে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধ ও সামরিক অপারেশনের চাপ সেনাদের মানসিক ও আবেগীয় স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

গাজা অভিযান চলাকালীন সময়ে সেনাদের উপর অতিরিক্ত চাপ, মৃত্যুর ভয়, সহকর্মীদের ক্ষতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্বের বোঝা তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যহীনতার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক বাহিনীর মধ্যে আত্মহত্যার এই হারের পেছনে মানসিক চাপ, মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার অভাব এবং যুদ্ধের পরবর্তী পুনর্বাসন ব্যবস্থার ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইসরাইলি সমাজও এই ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক কর্মকাণ্ড ও গাজা অভিযান থেকে ফিরে আসা সৈন্যদের মানসিক সমর্থন ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার ঘাটতি সেনাদের মধ্যে হতাশা ও হতাশাবোধ বৃদ্ধি করছে। এই সমস্যা শুধু সামরিক বাহিনীর নয়, দেশের সামাজিক ও স্বাস্থ্য কাঠামোকে নিয়েও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী এবং থেরাপিস্টদের মাধ্যমে PTSD বা যুদ্ধোপরান্ত মানসিক চাপ মোকাবিলা করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন কর্মসূচি ও দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সমর্থন প্রয়োজন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ইসরাইলকে তার সামরিক বাহিনীর মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং তার পরবর্তী প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।

মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার এই প্রবণতা শুধু সামরিক বাহিনীর নয়, ইসরাইলের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেনাদের নিরাপত্তা, তাদের মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক বাহিনীকে শুধু অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে নয়, মানসিক ও আবেগীয়ভাবে সুসংগঠিত করা প্রয়োজন।

সংক্ষেপে, গাজা যুদ্ধ থেকে ফিরে ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ক্রমবর্ধমান এবং এটি দেশে সামরিক ও সামাজিক কাঠামোর জন্য একটি গুরুতর সংকেত। সর্বশেষ আত্মহত্যার ঘটনা দেখাচ্ছে, যুদ্ধের প্রভাব কেবল সামরিক অপারেশনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসনের জন্যও তা গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত