মহাসড়কে পারাপারের সময় বাসচাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

মহাসড়কে বাসচাপায় নিহত মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক ঘটনায় আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় বনপাড়া–হাটিকুমরুল মহাসড়কে পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন মনসুর রহমান নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী। একটি মুহূর্তের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে পারাপারের ঝুঁকি মিলিয়ে এই দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে, রেখে গেছে শোক ও অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়া।

বুধবার ১৭ ডিসেম্বর বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকাগামী ‘রাজকীয় পরিবহন’-এর একটি বাস ওই এলাকায় দ্রুতগতিতে চলছিল। ঠিক সেই সময় মোটরসাইকেল নিয়ে মহাসড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন মনসুর রহমান। বাসটি তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের আবহ নেমে আসে।

নিহত মনসুর রহমান নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ভিটা কাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার বয়স ছিল ৪২ বছর। তিনি মৃত গোলাম সারোয়ারের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মনসুর একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন এবং জীবিকার তাগিদে প্রায়ই মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী গভীর শোকে মুহ্যমান।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন বাসটি থামানোর চেষ্টা করেন এবং খবর দেন হাইওয়ে পুলিশকে। বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আটক রাখা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং পারাপারের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। বনপাড়া–হাটিকুমরুল মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিসেবে পরিচিত। এই পথে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের অনেক অংশে পর্যাপ্ত ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস কিংবা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই। ফলে পথচারী ও ছোট যানবাহনের চালকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হতে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজকীয় পরিবহনের বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছিল। মহাসড়কে গতিসীমা মানার ক্ষেত্রে অনেক পরিবহনই নিয়ম ভাঙছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাসগুলোর মধ্যে সময়ের চাপ, যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা এবং নিয়ন্ত্রণের অভাবের কারণে প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। এর ফলেই একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে—অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা। বনপাড়া–হাটিকুমরুল মহাসড়কের মতো ব্যস্ত সড়কে যদি নির্দিষ্ট পারাপারের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। তারা মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা একসঙ্গে বাড়াতে হবে।

মনসুর রহমানের মৃত্যুর খবরে তার গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি ছিলেন পরিবারের অন্যতম ভরসা। তার মৃত্যুতে পরিবারটি অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এভাবে জীবন চলে যাওয়ার ঘটনা যেন নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

স্থানীয়রা আরও জানান, হাজিরহাট এলাকায় এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবুও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ওই এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণ, স্পিড ব্রেকার, সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পারাপারের দাবি জানিয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, তারা নিয়মিত অভিযান চালালেও জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব জায়গায় একযোগে নজরদারি সম্ভব হয় না। তবে দুর্ঘটনা কমাতে তারা বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেস পরীক্ষা এবং চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলছেন।

সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে তার সুফল খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হন। এর বড় একটি অংশ ঘটে মহাসড়কে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত