‘এটা আমার কর্তব্য ছিল’, বাবাকে হত্যার পর মন্তব্য ছেলের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি শহরে একটি ভয়ঙ্কর পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে ২৮ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিজিৎ প্যাটেলকে আটক করা হয়েছে, তার বাবা অনুপম প্যাটেল (৬৭) নিহত হওয়ার অভিযোগে। মার্কিন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, থ্যাঙ্কসগিভিং সপ্তাহান্তে এই ঘটনায় অভিজিৎ নিজের বাড়িতেই স্লেজহ্যামার দিয়ে তার বাবাকে হত্যা করেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সময় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিজিৎকে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

কুক কাউন্টি প্রসিকিউটরদের মতে, ২৯ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে অনুপম প্যাটেলের স্ত্রী তার স্বামীকে ঘরের ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার দিন ভোরে তিনি কাজে বের হয়ে যান এবং তখন বাড়িতে শুধু বাবা ও ছেলে ছিলেন। অনুপম প্যাটেল ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় নিজে কাজে যাননি। তার গ্লুকোজ মনিটর স্ত্রীর মোবাইল ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল এবং প্রতিদিন সকালে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে ব্লাড সুগারের তথ্য শেয়ার করতেন। কিন্তু হত্যার দিন তিনি ফোন করেননি, যা স্ত্রীর উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।

পরবর্তীতে সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী বাড়ি ফিরে দেখেন গ্যারেজের দরজা খোলা। তখন অভিজিৎ তাকে বলেন, তিনি ‘বাবার দেখভাল করেছেন’ এবং স্ত্রীর কাছে বাবার ঘরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঘরে ঢুকতেই স্ত্রী দেখতে পান অনুপম রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুপম প্যাটেলকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, তার মাথায় অন্তত দুইবার আঘাত করা হয়েছিল, যার ফলে খুলি ফেটে এবং নাক ভেঙে গেছে।

পুলিশ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই অভিজিৎ আত্মসমর্পণ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন যে ছোটবেলায় বাবার দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়ায় এটি তার ‘ধর্মীয় কর্তব্য’ ছিল। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার মানসিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নথি অনুযায়ী, অভিজিৎ সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত এবং আগেও মানসিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

উল্লেখ্য, হত্যার আগে অভিজিৎ প্যাটেলের বিরুদ্ধে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা ছিল, কারণ পূর্বেও তিনি হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে পরিবার তাকে বাড়িতে থাকতে দিয়েছিল। এই সুরক্ষা আদেশ ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর ছিল। বর্তমানে অভিজিৎকে বিনা জামিনে আটক রাখা হয়েছে এবং তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ডিসেম্বর।

এই ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ড শুধু এক ব্যক্তির নয়, সমগ্র পরিবারের জন্য এক ভয়ঙ্কর ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানাচ্ছে, এমন ঘটনায় পারিবারিক সহিংসতার সতর্ক সংকেতগুলো আগে চিহ্নিত করতে না পারার কারণে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। অপরাধের সঙ্গে মানসিক রোগের সম্পর্কও মামলার ন্যায়িক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা, মানসিক চাপ এবং অতীত নির্যাতনের অভিজ্ঞতা কখনও কখনও ভয়াবহভাবে প্রকাশ পেতে পারে। এই ঘটনায় দেখানো হয়েছে, মানসিক রোগী এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের সমন্বয় কখনও কখনও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য পারিবারিক সদস্যদের প্রতি বিশেষ নজরদারি এবং মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়াও সুরক্ষা আদেশ কার্যকর হলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে অনুসরণ না করলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থেকে যায়।

এই ঘটনায় মার্কিন সমাজের মধ্যে পারিবারিক সহিংসতার এবং মানসিক রোগীদের সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চালাচ্ছে এবং পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত