মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ কবিরকে হাতে-পা বেঁধে হত্যা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

মালয়েশিয়ার জহুর জেলার উলু তিরাম এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ কবিরকে হাতে-পা বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দীর্ঘ নয় বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানো কবির, নাটোরের বড়াইগ্রামের গোপালপুর ইউনিয়নের কইলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে কবিরের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর স্ত্রী শিউলি বেগম ও একমাত্র সন্তান সোহাগ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ কবির জহুরের একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালে দেশে এক ছুটির পর পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। আগামী ৩ জানুয়ারি দেশে ছুটিতে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি আর ফিরতে পারলেন না। বুধবার সকালে স্থানীয়রা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। হত্যার সময় প্রতিষ্ঠানটিতে মালামাল লুট করার চেষ্টা করছিল দুর্বৃত্তরা। কবির বাধা দেওয়ায় তারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছার পর পরিবারের সদস্যরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, গত রাত ১টার দিকে কবির তাদেরকে ডিউটির ছবি পাঠিয়েছিলেন। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সকালে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি আর জীবিত নেই। এ ঘটনার পর মালয়েশিয়া পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, মোহাম্মদ কবিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক। পরিবারের শোক, মানসিক আঘাত এবং প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক মঞ্চেও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, কিন্তু এ ধরনের হত্যাকাণ্ড তাদের পরিবারে চরম দুঃখের সৃষ্টি করেছে।

নাটোর ও জহুরের স্থানীয় সংবাদ সূত্র মতে, প্রবাসী মোহাম্মদ কবিরের এই নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি পরিবারের সদস্যরা অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন হত্যার সঙ্গে যুক্ত সকলকে দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হয় এবং প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মোহাম্মদ কবিরের স্ত্রী শিউলি বেগম ও একমাত্র সন্তান সোহাগ জানান, তাদের কাছে এখন শুধুই মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং ন্যায় বিচার প্রয়োজন। এই হত্যাকাণ্ড প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দুঃখজনক হলেও দেশের প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যাতে প্রবাসী শ্রমিকরা নিরাপদভাবে তাদের কর্মজীবন পরিচালনা করতে পারেন।

ঘটনার পর থেকে নাটোরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, কবির একজন পরিশ্রমী ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন, এবং তার এমন নির্মম মৃত্যু প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য দুঃখজনক একটি বার্তা রূপে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা এ ঘটনার তদারকি করছেন এবং প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের জন্য নজর রাখছেন।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা মানবিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে দেশের প্রবাসী নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত