ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে সূচক পতন, বাজার মূলধন কমল সাড়ে ১০ হাজার কোটি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার
ডিএসই বাজার মূলধন পতন সাপ্তাহিক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলতি সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের ধারাবাহিক পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা, যা ১ দশমিক ৫৩ শতাংশের সমতুল্য। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, যেখানে এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এটি ছিল ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সও পতনের মুখে ছিল। সপ্তাহজুড়ে এই সূচক কমেছে ১৩২.৪২ পয়েন্ট বা ২.৬৭ শতাংশ। একই সঙ্গে ডিএসই-৩০ সূচক ৪৩.৪৩ পয়েন্ট বা ২.২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ডিএসইএস সূচক কমেছে ৩৩.৬৬ পয়েন্ট বা ৩.২৫ শতাংশ। ডিএসইর সবগুলো সূচকেই সমানভাবে পতনের ছাপ দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকির অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।

দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পতন লক্ষ্য করা গেছে। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ১.৭৮ শতাংশ ও ১.৭২ শতাংশ কমে ১৩৬২৪.৩৬ পয়েন্ট এবং ৮৪০৩.৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসই-৫০ সূচক ১.৭৭ শতাংশ কমে ১০৪৬.৩২ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ২.০২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮৫৮.১৮ পয়েন্টে, এবং সিএসই-৩০ সূচক কমেছে ১.৭৬ শতাংশ, যা ১২০৯০.৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

লেনদেনের দিক থেকেও সপ্তাহটি ছিল একেবারে ধীর। সিএসইতে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয়েছে মাত্র ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা কম। লেনদেনের এই কমতে থাকা প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা এবং বাজারে আস্থাহীনতা বৃদ্ধি করেছে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৫০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদের মধ্যে দাম বেড়েছে ৭১টির, কমেছে ১৫৯টির, এবং ২০টির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেনের এই অস্বাভাবিক অনুপাতও বাজারের সামগ্রিক মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলতি সপ্তাহে সূচকের পতনের পেছনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিদেশি বিনিয়োগের স্বল্পতা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক পরিবেশের অনিশ্চয়তার কারণগুলো বড় ভূমিকা পালন করেছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে একদিকে আস্থাহীনতা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে বাজারে বিনিয়োগ কমিয়ে রেখেছেন। এ পরিস্থিতি পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক প্রবাহকে প্রভাবিত করছে এবং বাজারের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হলে বাজারের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারের এই পতনের ফলে দেশের বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে লেনদেন কমিয়েছেন। একদিকে লেনদেনের স্বল্পতা, অন্যদিকে সূচকের পতন মিলিতভাবে বাজারকে ধীরে ধীরে নিম্নমুখী প্রবণতায় ঠেলে দিয়েছে।

সংক্ষেপে, চলতি সপ্তাহে ডিএসই ও সিএসই উভয় বাজারেই পতনের ধারা দৃশ্যমান হয়েছে। মূলধনের হ্রাস, সূচকের পতন এবং লেনদেনের কমতি বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাজারের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত