প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সেনানী, মুক্তিবাহিনীর উপ-সর্বাধিনায়ক এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, বীর উত্তম আর নেই। আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতিগত এই অপূরণীয় ক্ষতির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ কে খন্দকারের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “আব্দুল করিম খন্দকার, যিনি এ কে খন্দকার নামে পরিচিত, ছিলেন এক অনন্য বীর ও অকুতোভয় দেশপ্রেমিক। মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব ছিল অবিস্মরণীয়। যুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গড়ে তুলতে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন। জনজীবনেও তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।” মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও সহযোদ্ধা রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জুন তাঁর সহধর্মিণী ফরিদা খন্দকারও সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ কে খন্দকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তিনি মুক্তিবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বিমান বাহিনীর বিশেষ ইউনিট ‘কিলো ফ্লাইট’-এর কমান্ডার ছিলেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি দুই মেয়াদে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক জীবন শেষে তিনি কূটনীতি ও রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয় এবং ২০১১ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন। তবে জীবনের শেষ দিকে তাঁর লেখা ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বইটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। আজ তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।