প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় অস্ত্রের মুখে অপহরণের মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে লটো শো-রুমের স্বত্বাধিকারী পিন্টু আকন্দের (৩৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা তার শো-রুম থেকে জোরপূর্বক তাকে হাইস মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় এবং এরপর আদমদীঘীর কুমাড়পাড়া এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন জানান, হত্যায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাস এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বাকি অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।” পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মৃত ব্যবসায়ীর বাড়ি নওগাঁ জেলার রানিনগর থানার লোহাচুরা গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, সোমবার রাত ৯টা ৮ মিনিটে সাদা রঙের হাইস মাইক্রোবাস দুপচাঁচিয়া লটো শো-রুমের সামনে আসে। গাড়ি থেকে চারজন দুর্বৃত্ত বের হয়ে আসে। তাদের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পিন্টুকে শো-রুম থেকে জোরপূর্বক বের করে আনে। পরে বাকিরা তাকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে আদমদীঘীর দিকে রওয়ানা হয়। এ সময় দুর্বৃত্তদের মুখ ঢাকা ছিল। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় ব্যবসায়ীরা এলাকায় আতঙ্কে রয়েছে। আদমদীঘী থানা পুলিশ অপহৃত পিন্টুর হত্যার ঘটনার তদন্তে মাইক্রোবাসের ড্রাইভার সানোয়ার হোসেন (৪০)-কে আটক করেছে। তিনি দুপচাঁচিয়ার উত্তর সাজাপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। এছাড়া দুইজন—সাকিল ও সাগরকেও সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী ও পরিবার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, রাতের এই ভয়ঙ্কর ঘটনায় পুরো পরিবার শোকস্তব্ধ এবং বিচারপ্রার্থী। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। পিন্টু আকন্দ ব্যবসায়িক দিক থেকে এলাকায় পরিচিত এবং তার শো-রুম ব্যবসা অনেক বছর ধরে চলে আসছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকা থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাড়ি ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলাকারীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কাজ চলছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লটো শো-রুম, খুচরা ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকতে পুলিশ পরামর্শ দিয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং আরও তদন্তকারী দল কাজ করছে।
পিন্টু আকন্দের লাশ উদ্ধার হওয়া মাত্র পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। এর মধ্যে একজন গাড়ি চালক এবং বাকিরা সংশ্লিষ্ট সহযোগী। পুলিশের আশা, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পুরো চক্রের খোঁজ পাওয়া যাবে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ঘটনার স্বপক্ষে জানা গেছে, সোমবার রাতেই পিন্টু আকন্দ শো-রুমে ছিলেন এবং রাত ৯টার দিকে হঠাৎ তার অপহরণ হয়। এই সময়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে সংঘটিত এই ঘটনা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পুলিশকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার তদন্তে মনোনিবেশ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।