প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় মুরগি কিনতে গিয়ে বাগবিতণ্ডার পর এক ক্রেতা পিটিয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় আলগাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম আইয়ুব আলী (৬৮), তিনি সদর ইউনিয়নের এয়াকুব আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফজাল মিয়ার খামারে মুরগি কিনতে গিয়ে আইয়ুব আলীর সঙ্গে মুজিবুর মিয়ারের ছেলে সাব্বির ও আরও কয়েকজনের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। বিরোধের সূত্রপাত ছিল মুরগির সিরিয়াল সংখ্যা নিয়ে। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির উত্তেজনা ছড়িয়ে মারধরে রূপ নেয়। মুজিবুর মিয়ারের ছেলেরা আইয়ুব আলীকে কিলঘুষি এবং মারধর করে। ঘটনার সাক্ষী স্থানীয়রা তাদের তৎক্ষণাৎ বিচ্ছিন্ন করতে চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরে আহত অবস্থায় আইয়ুব আলীকে উদ্ধার করে ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের সদস্য বাহার উদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘মুরগি কেনার সময় সিরিয়াল নিয়ে তর্কের জেরে মুজিবুর মিয়ারের ছেলে সাব্বিরসহ তিন-চারজন মিলে আইয়ুব আলীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা চাই এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামে এই ধরনের সহিংসতা কখনও কখনও তুচ্ছ বিষয় থেকেই শুরু হয়। তবে আজকের ঘটনা সমাজে ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বয়স্ক ও অভিজ্ঞ নাগরিক আইয়ুব আলী এমনভাবে নির্মমভাবে মারা যাওয়ায় পুরো এলাকা শোকাহত। তিনি শুধু পরিবারের প্রতি নয়, এলাকার মানুষদের কাছে প্রতিটি কাজে সহযোগী ও সহমর্মী ছিলেন। তার মৃত্যু এলাকায় মানবিক ও সামাজিক শূন্যতা তৈরি করেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, মুরগি বা অন্যান্য প্রাণিসম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাধারণত স্থানীয় চুক্তি ও পরামর্শে লেনদেন হয়ে থাকে। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাগুলো প্রায়শই রীতিমতো মানবিক ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। বিশেষত বৃদ্ধ ও অভিজ্ঞ নাগরিকরা এই ধরনের ঘটনায় অযাচিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আইয়ুব আলীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের এই ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত চালাচ্ছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অপরদিকে, স্থানীয় সমাজকর্মীরা মনে করছেন, গ্রামীণ এলাকায় এমন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ছোট-বড় বিরোধকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব। পাশাপাশি, স্থানীয়দের মধ্যে সংলাপ ও সহমর্মিতা বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে অর্থনৈতিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে কোনো প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে।
আইয়ুব আলীর মৃত্যু কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তা ও সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছে, যদি তুচ্ছ বিষয়ক বিরোধ নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, গ্রামের সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ ও সহিংসতা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সক্রিয় হস্তক্ষেপ অপরিহার্য। আইয়ুব আলীর মৃত্যু শুধু তার পরিবারকে নয়, পুরো এলাকার সামাজিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করেছে। স্থানীয়দের আশা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।