ডিসি-এসপিদের দৃঢ়তায় সাহসী সিইসি, সুষ্ঠু নির্বাচনের বার্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯০ বার
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা সিইসির

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান দেখে নিজের আত্মবিশ্বাস ও সাহস বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) সাহসী ভূমিকা ও আইনের পক্ষে অবস্থানই নির্বাচন কমিশনকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাচ্ছে। তাঁদের বুকভরা সাহস দেখেই কমিশনও দায়িত্ব পালনে আরও দৃঢ় ও নির্ভীক হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সিইসি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠক আয়োজন করা হয়। বৈঠকে সারাদেশ থেকে আগত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, ভোটের পরিবেশ, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের নানা দিক উঠে আসে।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে মাঠ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বুক ফুলিয়ে যখন আমাকে সাহস দেবেন, আমিও তখন সাহসী হব। আপনাদের অঙ্গীকার আমাকে সাহসী করে তোলে। আপনারা যখনই আইনের প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসী পদক্ষেপ নেবেন, বিধি-বিধানের আলোকে কাজ করবেন—ইনশাআল্লাহ নির্বাচন কমিশন আপনাদের পাশে থাকবে।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে, নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার বিষয়টি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শুধু নির্দেশনা দেওয়া নয়, বরং মাঠে সেই নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ। এই জায়গায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও আইনের প্রতি আনুগত্যই পারে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে।

সিইসি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাকে খুশি করার কোনো দরকার নেই। আপনারা আপনাদের অধীনস্থদের আইনের মাধ্যমে পরিচালনা করবেন। সিস্টেম যেন ঠিকমতো ডেলিভারি দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা আপনাদেরই করতে হবে।” তিনি প্রশাসনের সর্বস্তরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তাঁর ভাষায়, কোনো ধরনের বিচ্যুতি বা পক্ষপাতমূলক আচরণ নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

নাসির উদ্দিন বলেন, বর্তমান সময়টি দেশের জন্য একটি যুগসন্ধিকাল। এই সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোথাও কোনো ব্যর্থতার সুযোগ নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামান্য গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতা বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।

মতবিনিময় সভায় সিইসি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ও ন্যায়সঙ্গত ভূমিকা রাখতে হবে। নির্বাচনকালীন সময় সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কোনো পক্ষ যেন প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের অনেকেই তাঁদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা নির্বাচনকালীন সময়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন, যেমন রাজনৈতিক চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সহিংসতার আশঙ্কা। এসব বিষয়ে কমিশনের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা চান তাঁরা।

এর জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন সব ধরনের আইনি ও নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, কোনো কর্মকর্তা যদি আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন, কমিশন তাঁর পাশে থাকবে। এই আশ্বাস মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আস্থার বার্তা দেয়।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিইসির এই বক্তব্য ও প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাঠ প্রশাসনের দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতা থাকলে নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়। তাই ডিসি-এসপিদের সাহসী ভূমিকা নিয়ে সিইসির প্রকাশ্য প্রশংসা প্রশাসনের মনোবল আরও বাড়াবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের মধ্যে এই সমন্বয় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা থাকে, তখন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

মতবিনিময় সভা শেষে কয়েকজন জেলা প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিইসির বক্তব্য তাঁদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট অবস্থান থাকলে মাঠে কাজ করা সহজ হয়। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে কমিশন ও প্রশাসনের এই বোঝাপড়া অব্যাহত থাকবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন মাঠ প্রশাসনের ওপর যে আস্থা রাখছে, তা সিইসির বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। “ডিসি-এসপিদের দেখে বুকের জোর বেড়েছে”—এই একটি বাক্যই যেন বর্তমান নির্বাচন প্রস্তুতির মানসিক চিত্র তুলে ধরে। এখন দেখার বিষয়, এই সাহস ও অঙ্গীকার মাঠে কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং দেশের মানুষ কতটা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার পায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত