উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা, দিনাজপুরে তাপমাত্রা ১১°

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা ও তাপমাত্রা ১১° রেকর্ড

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তরাঞ্চলের মানুষ শীতে কাঁপছে। দিনাজপুরে আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা ক্রমেই বেড়েছে, যার প্রভাবে মানুষ, গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণিকূল কাহিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। শীতে কাজ না পেয়ে বহু শ্রমজীবী কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

শীতের কারণে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। মানুষের চাহিদা বেশি হওয়ায় দোকানিরা গরম কাপড়ের দাম খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। দিনাজপুরে গত এক সপ্তাহ ধরে বেলা ১২টার পর সূর্যের দেখা মেলছে না। যদিও ১২টার পর সামান্য সূর্যের আলো মিললেও তাপ অনুভূত হয় না। বিকেল ৩টার পর সূর্য আবারো হারিয়ে যাওয়ায় শীত আরও তীব্র হয়ে যায়।

দেশের অন্য জেলায় শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও দিনাজপুর ও আশপাশের জেলায় হিমেল হাওয়া বইছে। সাথে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের আলো দেখা যাচ্ছে না। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই অবস্থা আগামী দু’একদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শীতের কাঁপুনি মানুষকে সীমিত গতিশীলতা নিতে বাধ্য করছে। মানুষ ছাড়াও গবাদি পশু, কুকুর, বিড়াল এবং অন্যান্য প্রাণিকূলও কনকনে শীতে কষ্টে আছে।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, আজ ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল ৯৬ শতাংশ, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোর এবং রাতের সময় হিমেল বাতাস ও কুয়াশার কারণে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষদের জন্য শীতজনিত ঝুঁকি বেড়েছে।

শীতের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতেও চাপ বেড়েছে। শীতজনিত সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, শীত যত বাড়বে, রোগের ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পাবে। ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন।

কৃষি ক্ষেত্রেও শীতের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিনাজপুরে বোরো ধানের চারা রোপণ, সবজি চাষসহ অন্যান্য কৃষিকাজ চলছে। অতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কিছু ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে আলু, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও অন্যান্য শাকসবজির ক্ষেত্রগুলোতে রোগবালাই বৃদ্ধি পেতে পারে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

স্থানীয়দের মধ্যে শীতবস্ত্র ও কম্বল ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রত্যন্ত ও দরিদ্র এলাকায় শীতবস্ত্রের ঘাটতি প্রকট। অনেকে পুরোনো কাপড়, কম্বল বা পলিথিন দিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

দিনাজপুর শহরের রাস্তায় সকাল থেকেই মানুষ কনকনে ঠান্ডা বায়ু ও কুয়াশার মধ্যে চলাচল করছেন। শিশু ও বৃদ্ধরা বিশেষভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, শীতে আক্রান্তদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, উষ্ণ বস্ত্র এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা অপরিহার্য। আগামী কয়েকদিনের জন্য আবহাওয়া অফিস শীত ও কুয়াশার তীব্রতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, পশুপাখির নিরাপত্তা এবং কৃষিখাতের কার্যক্রম প্রভাবিত হচ্ছে। শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি জরুরি হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত