স্বর্ণের দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ছাড়াল ৪৫০০ ডলার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৪ বার
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ছাড়াল ৪৫০০ ডলার

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া উত্থান ক্রমেই তীব্র আকার নিয়েছে এবং বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মূলত এই উত্থানের পেছনে প্রভাব ফেলেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৯২ দশমিক ৫১ ডলারে অবস্থান করছে। সেশনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫২০ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

সুধী বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এই উত্থান মূলত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি এবং আগামী বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমতে পারে- এমন প্রত্যাশার কারণে। গ্লোবাল মার্কেট বিশ্লেষকরা বলেন, বিশ্বের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত সম্পদে নজর দিচ্ছেন।

এদিকে, রুপার দামও নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। বুধবার রুপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে রুপার দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ৭২ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছিল। প্ল্যাটিনামের দামও বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৫১ দশমিক ০৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৭৭ দশমিক ৫০ ডলার স্পর্শ করেছিল। প্যালাডিয়ামের দামও প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৯৭ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ৭০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি। নিরাপদ আশ্রয়স্থল, মার্কিন সুদের হারের সম্ভাব্য হ্রাস, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় এবং ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়াসহ নানা কারণে বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান ধাতুতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। রুপার দামও এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বর্ণকে ছাড়িয়ে গেছে, যার মূল কারণ হচ্ছে বিনিয়োগ চাহিদা বৃদ্ধি, মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ তালিকায় রুপার অন্তর্ভুক্তি এবং ক্রয় গতি বাড়া।

টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রোর প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, “বিশ্বায়নের বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে মূল্যবান ধাতু বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুমানভিত্তিক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সম্পদ নিরাপদ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।” তিনি আরও বলেন, বছরের শেষের দিকে বাজারে তারল্য কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা অতিরঞ্জিত হয়েছে, তবে সামগ্রিক প্রবণতা শক্তিশালী এবং আগামী ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের দিকে যেতে পারে। একই সঙ্গে রুপার দাম ৮০ ডলারের দিকে ঠেলে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই উত্থান বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ চাহিদার প্রভাবকে প্রতিফলিত করছে। এ ধরনের বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি শেয়ারবাজার ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীরা সম্ভাব্য সুদের হ্রাস ও বৈশ্বিক ঋণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্বর্ণ ও রুপাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করছেন।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই প্রবৃদ্ধি উৎসাহব্যঞ্জক হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বাজারে অতিরিক্ত উন্মত্তি এবং দ্রুত ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন সতর্ক পরিকল্পনা, বাজারের পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত