মৌলভীবাজারে পিকআপ ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
মৌলভীবাজারে পিকআপ ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক দুঃখজনক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে কুলাউড়া-জুড়ী আঞ্চলিক সড়কের আছুরাঘাট এলাকায় পিকআপভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন তারা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পিকআপভ্যান চালক, যিনি বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয়রা এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনাটি ঘটে ঘন কুয়াশা ও সীমিত দৃশ্যমানতার কারণে।

নিহতরা হলেন একই এলাকার মো. নুরু মিয়ার ছেলে রিয়াদুল ইসলাম এবং মো. দুলু মিয়ার ছেলে জাবেদ আহমদ। তারা দুজনই স্থানীয় তরুণ সমাজে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় মানুষদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, কারণ দুর্ঘটনার সময়ে রিয়াদুল ও জাবেদ সকালে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোল্লা জানান, দুর্ঘটনা সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঘটে। দুই মোটরসাইকেল আরোহী কুলাউড়া-জুড়ী আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। আছুরাঘাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খায়। মুহূর্তেই দুই আরোহী ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর পিকআপভ্যান চালক আহত হন এবং বর্তমানে তিনি খোঁজে পাওয়া যাচ্ছেন না।

স্থানীয়রা বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে পথদৃশ্য সীমিত ছিল। তবে পিকআপভ্যান চালকের দ্রুতগতিও এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। স্থানীয়রা আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকলেও, রাস্তার কিছু অংশে ঘন কুয়াশা এবং সীমিত আলো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত পিকআপভ্যান চালক এবং নিহতদের জন্য তৎপরতা দেখিয়েছেন। স্থানীয় কেউ কেউ দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পৌঁছে আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আজও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তারা বলেন, এমন অকাল মৃত্যুর শোক মেনে নেওয়া তাদের জন্য কঠিন। পরিবার এবং প্রতিবেশীরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তবে শোক ও ক্ষতিটা সহজে কমছে না।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর অভিযান শুরু হয়েছে। পিকআপভ্যান চালককে খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন পথে অনুসন্ধান চলছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা পুলিশের মূল লক্ষ্য। কুলাউড়া থানার কর্মকর্তা আরও বলেন, এমন দুঃখজনক ঘটনা প্রতিরোধে দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কে সতর্কতা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, কুয়াশা থাকলে সড়কে দ্রুতগামী যানবাহন পরিচালনা করা বিশেষ সতর্কতার দাবি রাখে। তারা মনে করাচ্ছেন, কেবল সীমিত দৃশ্যমানতা নয়, ড্রাইভারদের অযত্ন ও অতিরিক্ত গতি এই ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ। বিশেষ করে স্থানীয় পিকআপ ভ্যানগুলো প্রায়ই সড়কে অতিরিক্ত দ্রুতগতি নিয়ে চলাচল করে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ায়।

এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষত কুয়াশার সময় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য স্থানীয় উদ্ধার দল, হাসপাতাল এবং পুলিশকে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।

এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ শোকাহত হলেও একে শিক্ষার একটি মেসেজ হিসেবেও দেখছেন। তারা বলছেন, সকলেরই সড়ক নিরাপত্তা মেনে চলা, সচেতনতা ও ধৈর্যপূর্ণভাবে গাড়ি চালানো উচিত। ঘন কুয়াশা, সীমিত দৃশ্যমানতা এবং দ্রুতগতি এই ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

নিহত দুই যুবক রিয়াদুল ইসলাম ও জাবেদ আহমদের পরিবার এখনও শোকাহত। তাদের আত্মীয়রা পুলিশকে অনুরোধ করছেন, দোষী চালককে দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও নিশ্চিত করতে চায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত