এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৩ বার
এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এভারকেয়ার হাসপাতাল ও এর সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো ধরনের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জননিরাপত্তা, রোগীদের গোপনীয়তা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬)-এর ২৮ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আজ বুধবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো ধরনের ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ করা হলো। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন ড্রোন পরিচালনার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেছে ডিএমপি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে পুলিশ।

ডিএমপি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও ধারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি কিংবা ব্যক্তিগত কৌতূহল—বিভিন্ন কারণেই ড্রোন উড়ানো হচ্ছে। তবে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে অনিয়ন্ত্রিত ড্রোন চলাচল নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভিভিআইপি রোগী, বিদেশি নাগরিক বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চিকিৎসা গ্রহণের সময় নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

এভারকেয়ার হাসপাতাল রাজধানীর একটি উচ্চ-নিরাপত্তা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে নিয়মিত জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী, নবজাতক, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে থাকা অসুস্থ মানুষ এবং বিদেশি রোগীরাও চিকিৎসা নেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোনের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত ছবি বা ভিডিও ধারণ হলে তা রোগীর ব্যক্তিগত অধিকার ও চিকিৎসা নীতিমালার পরিপন্থী হতে পারে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ডিএমপি এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক সময়ে ড্রোন প্রযুক্তি যেমন উপকারী, তেমনি অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, অবৈধ তথ্য সংগ্রহ কিংবা সন্দেহজনক বস্তু বহনের মতো ঘটনাও বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। হাসপাতাল এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন উড়ানো হলে তা কেবল নিরাপত্তা বাহিনীর জন্যই নয়, রোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই এমন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ডিএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুমোদন ছাড়া কেউ যদি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ড্রোন ওড়ান, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে ড্রোন জব্দ, জরিমানা কিংবা অন্যান্য আইনগত শাস্তির বিধানও প্রয়োগ করা হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে।

হাসপাতাল এলাকায় ড্রোন নিষিদ্ধের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ ও রোগীর স্বজনরা। অনেকেই বলছেন, চিকিৎসা নিতে এসে এমনিতেই রোগী ও পরিবার মানসিক চাপে থাকেন। এর মধ্যে আকাশে ড্রোন উড়তে দেখলে অস্বস্তি ও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে এটি আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই নিষেধাজ্ঞা রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে তারা মনে করছেন।

ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের একাংশ অবশ্য বলছেন, ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট গাইডলাইন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া থাকলে তা আরও কার্যকর হতে পারে। তাঁদের মতে, সব ড্রোন ব্যবহারই যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে, তা নয়। তবে হাসপাতাল ও সংবেদনশীল স্থানের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন—এ বিষয়ে তারাও একমত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক ‘নো-ড্রোন জোন’ ঘোষণা করে নাগরিকদের আগাম অবহিত করলে বিভ্রান্তি কমবে।

ডিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু এভারকেয়ার হাসপাতাল নয়, রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কূটনৈতিক এলাকা, সরকারি ভবন ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তা নিয়েও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কিছু এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই উদ্যোগকে বৃহত্তর নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আইন ও প্রয়োগ কৌশলও হালনাগাদ করা জরুরি। ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা, নিবন্ধন ও অনুমোদন ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের আগাম নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সবশেষে, ডিএমপি আবারও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু বাহিনীর তৎপরতাই যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভারকেয়ার হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড়ানো সংক্রান্ত এই নির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমে সবাই মিলে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক নগর পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত