তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে জিয়া উদ্যান-স্মৃতিসৌধে বিজিবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৯ বার
তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে জিয়া উদ্যান-স্মৃতিসৌধে বিজিবি

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে জিয়া উদ্যান, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ও সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারেক রহমান। এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কৌশলগতভাবে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, শুক্রবার জুমার নামাজের পর তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে সূরা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকবেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ও বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। এরপর তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এটি কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে জাতির গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্নে শ্রদ্ধা জানানোর একটি আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরা তারেক রহমানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। আবেগঘন পরিবেশে তিনি নেতাদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন, কুশল বিনিময় করেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে এই প্রথম সরাসরি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি, যা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ও পরবর্তী কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় জনসমাগম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে জিয়া উদ্যান ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মোতায়েন কোনো বিশেষ দল বা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক কর্মসূচি স্বাভাবিক বিষয়। তবে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। সে কারণেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করা যায়।

তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিকে বিএনপির রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শুধু পারিবারিক বা দলীয় আনুগত্যের প্রকাশ নয়, বরং দলের আদর্শিক ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা বহন করে, যা বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তবে একই সঙ্গে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, আবেগঘন পরিবেশে বড় জমায়েত হলে সামান্য উত্তেজনাও বড় আকার ধারণ করতে পারে। সে কারণেই প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক স্বাভাবিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ জনদুর্ভোগ এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে অনেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।

সব মিলিয়ে, জিয়া উদ্যান ও সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিজিবি মোতায়েন শুধু একটি নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় সতর্কতার প্রতিফলন। তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে এটি রাজনৈতিক সহাবস্থানের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তার বার্তাও পৌঁছে দেবে। এখন সবার দৃষ্টি শুক্রবারের কর্মসূচির দিকে—এই দিনটি কীভাবে দেশের রাজনৈতিক আবহে নতুন বার্তা যোগ করে, সেটিই দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত