প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে মন্তব্য করেছেন, যে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন বিনিয়োগকারীদের জন্য এক ধরনের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বার্তা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, এটি একটি সিগন্যাল যে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে।
চৌধুরী আশিক আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আরেকটি ভালো খবর এসেছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার ক্ষেত্রে, সেটি হলো বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (EPA)। এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ফ্রী ট্রেড এগ্রিমেন্ট (FTA) বা EPA প্রয়োজন। প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো ইতিমধ্যেই বহু দেশের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ভিয়েতনামের ৫০টি দেশের সঙ্গে এবং কম্বোডিয়ার প্রায় ২০টি দেশের সঙ্গে এমন চুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশ এখনও এরকম কোনো কম্প্রিহেনসিভ এগ্রিমেন্টে পিছিয়ে ছিল। তবে জাপানের সঙ্গে সফল EPA স্বাক্ষর এ ব্যবধান দূর করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগকারীরা একটি পরিষ্কার ও স্থির ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে কাজ করতে পছন্দ করে। জাপানের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ মাত্র ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন চুক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য পলিসি কনটিনিউটি, লিগ্যাল জুরিসডিকশন এবং এমএফএন সুবিধা নিশ্চিত করবে।
EPA-র ফলে বাংলাদেশে বিশেষ কিছু খাত যেমন ICT ও ডিজিটাল সেবা, লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন, ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি/অ্যাগ্রো-প্রসেসিং খাতে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষতা বিকাশের সুযোগও মিলবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে পোশাকসহ ৭,৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিপরীতে, জাপান ১,০৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। সেবা বাণিজ্য খাতেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাতে চারটি মোডে সেবা খাত উন্মুক্ত করবে। এই উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
চৌধুরী আশিক আরও জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করা অত্যাবশ্যক। অন্যান্য দেশে FTA/EPA নেগোসিয়েশনের জন্য সরকারে বিশেষজ্ঞ টিম থাকে। বাংলাদেশও প্রথমবারের মতো একটি সলিড দল তৈরি করছে, যা পরবর্তী সময়ে নেগোসিয়েটরের ভূমিকায় দক্ষতা প্রদর্শন করবে। ইতিমধ্যেই আমেরিকা, কোরিয়া, তুরস্কের সঙ্গে আলাপ শুরু হয়েছে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক কিছু ট্র্যাক স্থাপন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সরকার এই পদক্ষেপ থেকে উপকৃত হবে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে, নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
চৌধুরী আশিকের মতে, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং জাপানের সঙ্গে EPA চুক্তি একযোগে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দৃশ্যপটের জন্য শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে। এটি বিনিয়োগকারীদেরকে দেশের বাজারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।